সীমান্ত রক্ষায় নতুন দিগন্ত রেকর্ড সংখ্যক ৩ হাজার সৈনিকের শপথ গ্রহণ
দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন তিন হাজার নবীন সৈনিক। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টিকারী ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ (বিজিটিসিএন্ডসি)-এর 'বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে' বুধবার এই ঐতিহাসিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এই বিপুল সংখ্যক নবীন সদস্য একইসঙ্গে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সীমান্ত সুরক্ষায় এক নতুন যুগের সূচনা হলো।
সীমান্ত প্রহরায় নতুন দিগন্ত
বিজিবি সূত্রে জানানো হয়েছে, স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবীন সৈনিকদের শপথগ্রহণ ও প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এদিন সকালে নবীন সৈনিকরা প্রধান উপদেষ্টাকে সশস্ত্র সালামের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ শুরু করেন। এই বিপুল সংখ্যক নবীন সদস্যের একইসাথে শপথ গ্রহণ সীমান্ত সুরক্ষায় এক নতুন যুগের সূচনা করল।
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং বিজিটিসিএন্ডসির কমান্ড্যান্টসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের মন্ত্র
অভিবাদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁর বক্তব্য শেষে নবীন সৈনিকদের সশস্ত্র সালামের মাধ্যমে কুচকাওয়াজের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিজিবির প্রশিক্ষিত সদস্যদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ ট্রিক ড্রিল এবং সুসজ্জিত বাদকদলের মনোমুগ্ধকর ব্যান্ড ডিসপ্লে, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে তোলে।
নবযুগের সূচনা
এই বিপুল সংখ্যক নবীন সদস্যের একইসঙ্গে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সীমান্ত সুরক্ষায় এক নতুন যুগের সূচনা হলো। এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব পালনে তাদের অঙ্গীকারকেই তুলে ধরে। বিজিবির এই সম্প্রসারণ দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।