সর্বশেষ
Loading breaking news...

অর্থনীতির চাকা সচল করতে ব্যবসায়ীদের সাথে সংলাপে বসার আহ্বান নতুন সরকারের প্রতি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি নির্বাচিত সরকারের আগমন দেশের অর্থনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে আসল সংকট মোকাবিলার জন্য সরকারের হাতে রয়েছে সবচেয়ে সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠিটি—দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে অবিলম্বে ফলপ্রসূ সংলাপ স্থাপন। নীতি সহায়তা প্রদান, বন্ধ হয়ে থাকা শিল্প-কারখানা পুনরায় চালু করা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর যে প্রচেষ্টা সরকার শুরু করতে চাইছে, তার সাফল্যের জন্য দেশের অভ্যন্তরীণ আর্থিক শক্তিকে কাছে টানা অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক অভিভাবকহীনতা ও শিল্পাঞ্চলের ক্ষত

ব্যবসায়ী মহল প্রায় দেড়টি বছর ধরে এক চরম 'অপেক্ষা ও নিস্তব্ধতা'র নীতি মেনে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছেন। তাঁরা তাকিয়েছিলেন কবে একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার আসবে এবং অর্থনীতির স্থবিরতা কাটবে। কিন্তু এই অপেক্ষার প্রহর গুনার সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতি নিয়ে কোনো কার্যকরী 'হোমওয়ার্ক' করেনি, যা নতুন সরকারের ভিত্তি হতে পারত। এই পরিস্থিতিতে, বিনিয়োগকারীরা কেবল সরকারের আহ্বানের অপেক্ষায় ছিলেন—যাতে তাঁরা তাঁদের সমস্যা জানাতে পারেন, অর্থনীতির আসল চিত্র তুলে ধরতে পারেন এবং প্রয়োজনে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার সুযোগ পান।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যতিরেকে বিনিয়োগের চাকা ঘোরানো অসম্ভব—এটি সর্বজনবিদিত সত্য। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশটি রাজনৈতিক অভিভাবকহীনতায় ভুগছিল। কারখানা দখল, অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটলেও তার যথাযথ বিচার হয়নি। এর ফলস্বরূপ, বহু শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যায়, হাজার হাজার শ্রমিক বেকারত্বের শিকার হন। সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্পাঞ্চলগুলোতে এক করুণ চিত্র বিরাজ করছে, যেখানে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ায় বড় কর্পোরেট গোষ্ঠীগুলোও হিমশিম খাচ্ছে।

আস্থা ফেরানোর উদ্যোগ ও সরকারের করণীয়

প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক সফর এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক সামিট আয়োজন করে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানানো হলেও, তা বাস্তবে কোনো বড় পরিবর্তন আনতে পারেনি। পুঁজিবাজারের দিকে তাকালেই দেশের অর্থনীতির দুরবস্থা স্পষ্ট। নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণহীন, শিল্প খাতে গ্যাস সংকটে উৎপাদন স্তব্ধ। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় নিয়ে সামান্য গর্ব করা ছাড়া সামষ্টিক অর্থনীতিতে দৃশ্যমান কোনো অর্জন নেই। নতুন সরকারকে বুঝতে হবে যে দীর্ঘ দেড় বছরে যে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তার কারণ এবং নিরাময়ের পথ উভয়েরই তথ্য ব্যবসায়ী মহলের কাছে মজুত আছে।

বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জোর দিয়ে বলেছেন, নির্বাচিত সরকার এলেই অর্থনৈতিক সূচকগুলো আর পেছানোর সুযোগ পাবে না। এখন সেই কথা রাখার পালা। শ্রীলঙ্কা ও নেপালের উদাহরণ টেনে বলা যায়, টেকসই উন্নয়নের জন্য পেশাদার ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জন করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের উচিত হবে না সেই সুযোগ হাতছাড়া করা। নির্যাতিত ব্যক্তিই মজলুমের কষ্ট বেশি বোঝে—এই জাগতিক নিয়মে, নিপীড়িত ব্যবসায়ী মহল তাঁদের কষ্টের ধারাভাষ্যের মাধ্যমে নতুন সরকারকে অর্থনীতির অচলাবস্থা কাটানোর সঠিক তথ্য ও নির্দেশনা দিতে প্রস্তুত।

আরও পড়ুন