সর্বশেষ
Loading breaking news...

২০২৬ সালের ফিতরা ও জাকাতের নতুন নেসাব ঘোষণা: জেনে নিন টাকার পরিমাণ

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো সাদাকাতুল ফিতর, যা দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর অসহায় ও দুস্থদের মুখে হাসি ফোটানোর এক অনন্য সুযোগ। মূলত ‘সাদাকা’ শব্দের অর্থ দান এবং ‘ফিতর’ শব্দের অর্থ রোজা ভঙ্গকরণ। মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা এবং ঈদের আনন্দকে সর্বজনীন করতে সামর্থ্যবান মুসলিমদের ওপর এই দান আবশ্যিক করা হয়েছে। ২০২৬ সাল বা ১৪৪৭ হিজরির জন্য ফিতরা ও জাকাতের নতুন নেসাব ঘোষণা করেছে রাজধানীর জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া।

টাকা ও স্বর্ণের সমীকরণ: ২০২৬ সালের নতুন নেসাব

রাজধানী ঢাকার জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার ফতোয়া বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে, চলতি বছর জাকাত ও ফিতরা আদায়ের জন্য নেসাব ধরা হয়েছে ২,৩০,০০০ টাকা। দারুল ইফতার প্রধান মুফতি মনসূরুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক বাজারদর অনুযায়ী স্বর্ণালংকারের জাকাত প্রদানের ক্ষেত্রেও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের জাকাতযোগ্য মূল্য ধরা হয়েছে প্রতি ভরি ২,২০,০০০ টাকা এবং ২১ ক্যারেট ২,১০,০০০ টাকা। এই নির্ধারিত মূল্যের ওপর ২.৫ শতাংশ হারে জাকাত পরিশোধ করতে হবে।

সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা কেবল সচ্ছলদের জন্য নয়, বরং এটি একটি নির্দিষ্ট সীমারেখার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহারের অতিরিক্ত যদি কারো কাছে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তবে তার ওপর ফিতরা ওয়াজিব হবে। এমনকি পরিবারের নাবালক শিশু বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির পক্ষ থেকেও তার অভিভাবককে এই সদকা আদায় করতে হবে।

সামর্থ্য ও সুযোগ অনুযায়ী বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ফিতরা আদায়ের সুযোগ রয়েছে ইসলামে। জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার হিসাব অনুযায়ী, আটা বা গমের মাধ্যমে ফিতরা দিলে জনপ্রতি ১০০ টাকা প্রদান করতে হবে। তবে কেউ যদি যব দিয়ে আদায় করতে চান তবে ৪৫০ টাকা, খেজুরের মাধ্যমে ২,০০০ টাকা এবং পনিরের মাধ্যমে ২,৬৫০ টাকা দিতে হবে। সবচেয়ে ব্যয়বহুল বা প্রিমিয়াম ক্যাটাগরি হিসেবে কিসমিসের মাধ্যমে ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে দিতে হবে ২,৮০০ টাকা।

অন্যদিকে, জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটি এ বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২,৮০৫ টাকা পর্যন্ত ফিতরা নির্ধারণ করেছে। তবে স্থানীয় বাজারদরের তারতম্য অনুযায়ী প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকার হিসাব মিলিয়ে জাকাত ও ফিতরা পরিশোধ করাই উত্তম।

আরও পড়ুন