দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বিকেলে ঢাকা আসছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আজ সোমবার বিকেলে ঢাকায় পা রাখছেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইটে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর অবতরণ করার কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক ও প্রটোকল প্রধানসহ মার্কিন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। "দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদটি অবশেষে পূর্ণতা পাওয়ায় কূটনৈতিক মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।" এর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অভিজ্ঞতার ঝুলি ও পুরনো সখ্যতা
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের জন্য কোনো অপরিচিত মুখ নন, বরং তিনি একজন পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ কূটনীতিক। ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওয়াশিংটনে শপথ গ্রহণের সময় তিনি বাংলাদেশের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের কথা উল্লেখ করে পুরনো কর্মস্থলে ফেরার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এই কূটনীতিক এর আগে ম্যানিলা, রিয়াদ ও হো চি মিন সিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশনে কাজ করেছেন। অভিজ্ঞতার আলোয় তিনি ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক করতে সক্ষম হবেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নির্বাচন ও আগামীর কর্মপরিকল্পনা
ঢাকায় পা রাখার পরপরই রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের কর্মব্যস্ততা শুরু হয়ে যাবে এবং তাঁর এজেন্ডায় আসন্ন নির্বাচন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিনি প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করবেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর এই তড়িঘড়ি আগমনকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে তিনি খুব শীঘ্রই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে সংলাপে বসবেন বলে জানা গেছে।
গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রশ্নে অবিচল
সিনেট শুনানিতে ক্রিস্টেনসেন স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের চর্চা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন তাঁর প্রধান এজেন্ডা হিসেবে থাকবে। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশই কেবল দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা এবং নাগরিক সমাজের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যে তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। "নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এবং সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তিনি নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।"
সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন
সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের বিদায়ের পর দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকায় পূর্ণাঙ্গ কোনো মার্কিন রাষ্ট্রদূত না থাকায় কূটনৈতিক যোগাযোগে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। ক্রিস্টেনসেনের নিয়োগের মধ্য দিয়ে সেই শূন্যতা পূরণ হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যের বাধা দূরীকরণ ও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শ্রম অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে তিনি নির্বাচিত সরকারের সাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আগামী দিনগুলোতে ঢাকার রাজনীতি ও কূটনীতিতে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের ভূমিকা অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।