মিচেলের মহাকাব্যিক ইনিংসে ইন্দোরে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো কিউইরা, সিরিজ ১-১
ইন্দোর টেস্টে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল নিউজিল্যান্ড। ড্যারিল মিচেলের অপরাজিত ১৩১ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংসের সৌজন্যে ভারতকে ৭ উইকেটে পরাজিত করে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল কিউইরা। ইন্দোরের মাটিতে ২৮৫ রানের কঠিন লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে সফরকারী দলটি অনায়াসেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের এই ওয়ানডে সিরিজের ভাগ্য এখন ঝুলে রইল শেষ ম্যাচের ওপর, যা কার্যত ‘ফাইনাল’ ম্যাচে রূপ নিয়েছে।
রাহুলের প্রতিরোধ বনাম মিচেলের আগ্রাসন
এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে। ওপেনার শুভমান গিল ৫৬ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও মধ্যম সারির দ্রুত পতনে ১১৮ রানেই চার উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে ‘মেন ইন ব্লু’। এই চরম বিপর্যয়ের মুখে দলের হাল ধরেন অভিজ্ঞ কে এল রাহুল। একপ্রান্ত আগলে রেখে শেষ দিকে আগ্রাসী ব্যাটিং করে তিনি ১১২ রানে অপরাজিত থাকেন। রাহুলের এই অনবদ্য সেঞ্চুরির সুবাদেই ভারত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ২৮৪ রান তুলতে সক্ষম হয়। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে ভারতীয় ইনিংসে বড় ধাক্কা দেন।
কনওয়ে-নিকোলাস ব্যর্থ, হাল ধরলেন মিচেল
২৮৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় নিউজিল্যান্ড। দলীয় ওপেনার ডেভন কনওয়ে এবং হেনরি নিকোলাস দ্রুত সাজঘরে ফিরলে সফরকারীদের ওপর মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। তবে ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেন তিন নম্বরে নামা ড্যারিল মিচেল। উইল ইয়ংয়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি ১৬২ রানের এক বিশাল পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন, যা কিউইদের জয়ের শক্ত ভিত গড়ে দেয়। উইল ইয়ং ৮৭ রান করে আউট হলেও, মিচেল তখন উইকেটে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন।
রেকর্ড গড়ে সিরিজ বাঁচাল নিউজিল্যান্ড
৯৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা মিচেল শেষ পর্যন্ত ১১৭ বলে ১৩১ রান করে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। শেষ দিকে গ্লেন ফিলিপস তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন এবং ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন। ৪৭.৩ ওভারেই নিউজিল্যান্ড ২৮৬ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে। এটি ভারতীয় মাটিতে নিউজিল্যান্ডের সফলতম ওয়ানডে রান তাড়া করার নজির সৃষ্টি করল। ইন্দোরের এই পরাজয় সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ভারতীয় দলের ওপর নিশ্চিতভাবেই বাড়তি মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে।