সর্বশেষ
Loading breaking news...

অর্থনৈতিক সংকটে নিউজিল্যান্ড: দক্ষ পেশাজীবীদের দেশত্যাগের হিড়িক

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নের সিডনিতে ঘর খোঁজার ঘটনাটি নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি বর্তমানে দেশটির গভীর এক সংকটের প্রতিচ্ছবি। বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে যে ‘গণ-অভিবাসন’ বা ‘এক্সোডাস’ শুরু হয়েছে, আরডার্নের দেশত্যাগের খবরে তা সাধারণ মানুষের কাছে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ছায়া ও অভিবাসন

ভালো জীবনের আশায় শুধু তরুণরা নয়, বরং প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার ও পরিবার নিয়ে মাঝবয়সী নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরাও এখন অস্ট্রেলিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাচ্ছেন। পরিসংখ্যান বলছে, গত চার বছরে ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী কিউইদের দেশ ছাড়ার হার দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি অশনি সংকেত।

গত নভেম্বর মাস পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ২২ হাজার মানুষ নিউজিল্যান্ড ত্যাগ করেছেন, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। অর্থনীতিবিদদের মতে, জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয় এবং অর্থনীতির স্থবিরতার কারণেই মানুষ এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় নিউজিল্যান্ডে বেতন অনেক কম কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেক বেশি।

নিউজিল্যান্ডের বর্তমান অর্থনৈতিক চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। গত দুই বছর ধরে দেশটির প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক এবং বেকারত্বের হার ক্রমাগত বাড়ছে। আবাসন খাতে বড় ধরনের দরপতন এবং সরকারি চাকরিতে ছাঁটাইয়ের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে উন্নত ভবিষ্যতের সন্ধানে কিউইরা প্রতিবেশী দেশগুলোকে বেছে নিচ্ছেন।

অভিজ্ঞ ও দক্ষ পেশাজীবীরা দেশ ছাড়তে শুরু করায় নিউজিল্যান্ডের জাতীয় উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও দেশটিতে এখনো নতুন অভিবাসী আসছে, কিন্তু দক্ষ জনশক্তি হারানোর ক্ষতি তা পুষিয়ে নিতে পারছে না। স্বদেশে টিকে থাকার নিশ্চয়তা না পেয়ে ‘গর্বিত কিউইরা’ এখন বিদেশের মাটিতেই নিজেদের ভবিষ্যৎ দেখছেন।

আরও পড়ুন