সর্বশেষ
Loading breaking news...

যুক্তরাষ্ট্রে মায়ের কাঁচা দুধ পানে নবজাতকের মৃত্যু, দেশজুড়ে সতর্কতা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

যুক্তরাষ্ট্রে মায়ের সামান্য একটি ভুলের মাশুল দিতে হলো এক নবজাতককে। গর্ভবতী অবস্থায় পাস্তুরিত না করা কাঁচা দুধ পান করেছিলেন মা, আর তার ফলেই ভয়াবহ ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে শিশুটি। নিউ মেক্সিকোর স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই মর্মান্তিক ঘটনার কথা জানিয়ে দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করেছেন। গর্ভবতী নারীদের জন্য অপাস্তুরিত দুগ্ধজাত পণ্য যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, এই ঘটনা তারই এক করুণ দৃষ্টান্ত।

গর্ভাবস্থায় মারাত্মক ভুলের মাশুল

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই নারীর শরীরে 'লিস্টেরিয়া' নামক এক মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটেছিল, যা গর্ভস্থ সন্তানের জন্য প্রাণঘাতী প্রমাণিত হয়। যদিও গোপনীয়তার স্বার্থে ভুক্তভোগী পরিবার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংগৃহীত প্রমাণ বিশ্লেষণ করে কর্মকর্তারা প্রায় নিশ্চিত যে, এই সংক্রমণের মূল উৎস ছিল সেই অপাস্তুরিত দুধ। লিস্টেরিয়া গর্ভবতী নারীর শরীরে সামান্য অসুস্থতার সৃষ্টি করলেও, গর্ভের সন্তানের জন্য এটি গর্ভপাত বা জন্মের পর মারাত্মক সংক্রমণের কারণ হতে পারে।

লিস্টেরিয়া মনোসাইটোজেনস নামক এই ব্যাকটেরিয়াটি এতটাই শক্তিশালী যে এটি ফ্রিজের ভেতরেও বেঁচে থাকতে পারে। আক্রান্ত মায়ের থেকে এই জীবাণু প্লাসেন্টা ভেদ করে গর্ভস্থ শিশুর শরীরে প্রবেশ করে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধ্বংস করে দেয়। চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে, ফলে সামান্য এই অবহেলা বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনে।

জনপ্রিয়তার আড়ালে লুকিয়ে থাকা মৃত্যুফাঁদ

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচার এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের সমর্থনে কাঁচা দুধের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন যে, পাস্তুরিত না করা দুধে কেবল লিস্টেরিয়াই নয়, সালমোনেলা, ই-কোলাই এমনকি বার্ড ফ্লু-এর মতো বিপজ্জনক জীবাণুও থাকতে পারে। একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ফুটিয়ে বা পাস্তুরায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেবল দুধকে এসব জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব।

দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষত শিশু, বয়স্ক এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য কাঁচা দুধ পান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এক শতাব্দীরও আগে চালু হওয়া পাস্তুরায়ন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব এই ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে। বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে জীবাণুমুক্ত না করে কোনো অবস্থাতেই সরাসরি দুধ পান না করার জন্য জনসাধারণকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন