নাইজেরিয়ার খনিতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণ: ৩৮ শ্রমিকের মৃত্যু, প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে
নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৮ জন সীসা খনি শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে। এই ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে আরও ২৭ জন শ্রমিক গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দেশটির প্লাটো রাজ্যের বাশার জেলার কামপানিন জুরাক খনি এলাকায় এই বিপর্যয় নেমে আসে, যা আফ্রিকার এই দেশটির খনি শ্রমিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ভোরের আলো ফোটার আগেই খাদে নেমেছিল শ্রমিকরা
স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে বিস্ফোরণটি ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শী এক খনি শ্রমিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন। বিস্ফোরণের সময় শ্রমিকরা গভীর খনির ভেতরে কাজ করছিলেন। সূত্র জানিয়েছে, শ্রমিকরা যখন খনির গর্তের অভ্যন্তরে কর্মরত ছিলেন, ঠিক তখনই সেখানে জমে থাকা গ্যাসে ভয়াবহ বিস্ফোরণটি ঘটে। কাছাকাছি থাকা শ্রমিকরাই প্রাথমিকভাবে উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
কর্তৃপক্ষের নিশ্চিতকরণ ও ত্রাণ তৎপরতা
অঞ্চলটির ভারপ্রাপ্ত ঐতিহ্যবাহী শাসক আলহাজ্জি আলিয়ু আদামু ইদ্রিস এই বিপুল সংখ্যক মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ৩৮ জনের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং আহত ২৭ জনকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ উদ্ধারকার্য এখনও পুরোপুরি সমাপ্ত হয়নি।
নিরাপত্তা দুর্বলতা: বারবার ফিরে আসা এক অভিশাপ
নাইজেরিয়ার খনি শিল্পে এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও একাধিকবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবজনিত কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। গত সেপ্টেম্বরে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জামফারা রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে একটি অবৈধ খনিতে পাথর ধসে কমপক্ষে ১৮ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন। খনি খাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও, বারবার এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি কার্যকর পদক্ষেপের অভাবকেই প্রকট করে তুলছে।