সর্বশেষ
Loading breaking news...

সরকারি চাকুরিজীবীদের নবম পে স্কেল চূড়ান্ত করতে সচিবালয়ে আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

সরকারি কর্মচারীদের জন্য আজ ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন হতে চলেছে। বহু প্রতীক্ষিত "নবম জাতীয় পে-স্কেল" চূড়ান্ত করার লক্ষে আজ বৃহস্পতিবার ফের বৈঠকে বসছে পে-কমিশন। সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পুরাতন ভবনে দুপুর ১২টায় এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দেশের লক্ষ লক্ষ সরকারি চাকুরিজীবী তাদের ভাগ্য নির্ধারণী এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের দিকে চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন।

আলোচনার টেবিলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

কমিশনের এই পূর্ণাঙ্গ বৈঠকে আলোচনার টেবিলে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয় স্থান পাচ্ছে। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে সরকারি কর্মচারীদের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন সীমা নতুন "বেতন কাঠামো" অনুযায়ী নির্ধারণ করা। এছাড়া বর্তমান বেতন কাঠামোতে বিদ্যমান গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে একটি যুগোপযোগী সংখ্যায় নিয়ে আসার বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা এবং উৎসব ভাতার মতো অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা হবে বলে জানা গেছে।

মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার মান

কেবল বেতন বাড়ানোই নয় বরং বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখেই এই পে-স্কেল সাজানো হচ্ছে। বাজারে চলমান আকাশচুম্বী "মূল্যস্ফীতি" এবং নিত্যপণ্যের ক্রমবর্ধমান দামকে বেতন নির্ধারণের প্রধান সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একটি পরিবারের গড় সদস্য সংখ্যা এবং ক্রমবর্ধমান শিক্ষা ও আবাসন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে একটি আধুনিক কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এই কাঠামোটি ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য একটি শক্তিশালী রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।

কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান

নবম পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরেই এক ধরণের উৎকণ্ঠা ও প্রতীক্ষা বিরাজ করছিল। প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে আজকের এই বৈঠক সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে একটি "চূড়ান্ত রূপরেখা" বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদি আজকের সভায় কমিশনের সদস্যরা একটি ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেন তবে দ্রুতই এর চূড়ান্ত রূপরেখা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। এতে করে দেশের সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের মাঝে আর্থিক স্বস্তি ফেরার ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সরকারের আগামীর রেফারেন্স কাঠামো

নতুন এই বেতন কাঠামো কেবল বেতন বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং এটি সিভিল সার্ভিসের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এবং "আর্থিক স্বস্তি" দিতে ভূমিকা রাখবে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন একটি সম্মানজনক বেতন কাঠামো সরকারি চাকুরিজীবীদের কর্মস্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে সক্ষম হবে। অবসরকালীন সুবিধাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাগুলোকেও এবারের পে-স্কেলে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা সচিবালয় থেকে শেষ পর্যন্ত কী সুখবর আসে তা দেখার জন্য।

আরও পড়ুন