সর্বশেষ
Loading breaking news...

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ দুই অস্ত্রধারী যুবক গ্রেপ্তার

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলিসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) ভোরে উপজেলার একলাশপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল এই অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তারকৃতরা এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান

 

 

 

পুলিশ জানায়, তাদের কাছে তথ্য ছিল যে, একদল সন্ত্রাসী নাশকতার উদ্দেশ্যে একলাশপুরে অবস্থান করছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি দল ওই এলাকায় ঘেরাও করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় দুই যুবককে হাতে-নাতে ধরা হয়। তাদের শরীর তল্লাশি করে কোমরে গোঁজা অবস্থায় আমেরিকার তৈরি একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

 

 

 

গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় ও মামলা

 

 

 

গ্রেপ্তারকৃতদের নাম মোঃ রফিক (২৮) এবং সুমন হোসেন (২৫)। তারা উভয়েই বেগমগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে থানায় এর আগেও হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তারা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং কিশোর গ্যাং এর প্রশ্রয়দাতা হিসেবে পরিচিত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অস্ত্র রাখার বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং তাদের গডফাদারদের নামও প্রকাশ করেছে।

 

 

 

এলাকাবাসীর স্বস্তি

 

 

 

কুখ্যাত এই দুই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, রফিক ও সুমন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তারা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করত। ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পেত না। তারা এই সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

 

 

পুলিশের কঠোর হুঁশিয়ারি

 

 

 

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, "সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই, তাদের একমাত্র পরিচয় তারা অপরাধী। এই এলাকায় কোনো অবৈধ অস্ত্রধারী বা সন্ত্রাসীকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।" গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তাদের রিমান্ডে এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করবে বলে জানা গেছে।

 

আরও পড়ুন