বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ উপনির্বাচন: মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন আজ
বগুড়া-৬ এবং শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন ও সাধারণ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সীমা আজ সোমবার (২ মার্চ) শেষ হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আজ বিকেল পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দুই আসনের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো জাতি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বগুড়া-৬ আসনটি সংসদ সদস্যের পদত্যাগের কারণে শূন্য ঘোষিত হয়েছিল এবং শেরপুর-৩ আসনটি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের মৃত্যুতে শূন্য হয়। নির্বাচন কমিশন গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এই দুই আসনের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর বিধান অনুযায়ী এই নির্বাচন পরিচালিত হচ্ছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে সব ধরনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং আজকের পর নির্বাচনী কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
বাছাই ও আপিলের সময়সূচি
আজ মনোনয়নপত্র জমার সময় শেষ হওয়ার পর, আগামী ৫ মার্চ রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন হবে। বাছাইয়ে কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলে বা কেউ সংক্ষুব্ধ হলে ৬ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে আপিল করার সুযোগ থাকবে। নির্বাচন কমিশন ১১ মার্চের মধ্যে এসব আপিল নিষ্পত্তি করবে। আপিল নিষ্পত্তির পর ১৪ মার্চ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। এরপর ১৫ মার্চ চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হবে।
বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত একটি এলাকা। অন্যদিকে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, গত ডিসেম্বরে ঘোষিত তফসিলের অধীনে যারা ইতিমধ্যে বৈধ প্রার্থী হিসেবে গণ্য হয়েছিলেন, তাদের নতুন করে মনোনয়নপত্র বা জামানত জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে নতুন আগ্রহী প্রার্থীদের আজই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে।
নির্বাচনী এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন রোধে নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেলেও, রাজনৈতিক উত্তাপের কারণে কিছুটা শঙ্কাও বিরাজ করছে। আগামী ৯ এপ্রিলের ভোটের মাধ্যমে এই দুই আসনের জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন, যা জাতীয় রাজনীতির গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।