সর্বশেষ
Loading breaking news...

রাজধানীর মিরপুরে ধরা পড়লেন নাটোরের ত্রাস এহিয়া: নেপথ্যে ডজনখানেক মামলার লোমহর্ষক কাহিনি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

নাটোর জেলা যুবলীগের বিতর্কিত নেতা মো. বাসিরুর রহমান খান এহিয়া চৌধুরী অবশেষে আইনের জালে ধরা পড়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুর এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৫)। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা এই নেতার গ্রেফতারের খবরটি নিশ্চিত করেছেন নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম।

রক্তাক্ত অতীত ও নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর অপরাধনামা

নাটোরের স্থানীয় রাজনীতিতে এহিয়া চৌধুরী এক আতঙ্কের নাম হিসেবে দীর্ঘকাল পরিচিত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, তিনি কানাইখালী এলাকার আলোচিত ছাত্রদল নেতা সুজন হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। তবে তার অপরাধের খতিয়ান কেবল একটি হত্যা মামলাতেই সীমাবদ্ধ নয়; তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অন্তত ১২টি গুরুতর মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে থাকলেও অবশেষে র‍্যাবের হাতে তাকে ধরা পড়তে হলো।

অস্ত্রের মহড়া ও গণঅভ্যুত্থান দমনে নিষ্ঠুর ভূমিকা

২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের আগে নাটোরে ছাত্র ও যুবলীগকে সাথে নিয়ে সশস্ত্র মহড়া দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এই নেতার বিরুদ্ধে। সে সময় আন্দোলন দমনে তিনি অত্যন্ত সহিংস ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে জানা গেছে। জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, এহিয়া চৌধুরী প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শহর দাপিয়ে বেড়াতেন এবং বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সশস্ত্র হামলার নেতৃত্ব দিতেন। তার নির্দেশেই একাধিক গুলিবর্ষণ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাটোর সদর থানার ওসি জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এহিয়া চৌধুরীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তার এই গ্রেফতারের সংবাদে নাটোরের জনমনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেকেই একে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয়রা এই গ্রেফতারের ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং এলাকায় শান্তির পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আশা করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, তার বিরুদ্ধে থাকা সকল মামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন