বিএমইউতে নার্স নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ: উপাচার্য অবরুদ্ধ, নিয়োগ বাতিলের দাবি
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ৮০০ জন নার্স নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিক্ষুব্ধ নার্সরা রবিবার সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও উত্তেজনা কমছে না।
নিয়োগে পছন্দের তালিকা গোপন ও টাকার খেলা
আন্দোলনরত নার্সদের অভিযোগ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ৩০০ জন যোগ্য নার্সকে গোপনে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, টাকার বিনিময়ে অযোগ্য আরও ৩০০ জন নার্সকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, উপাচার্যকে অন্ধকারে রেখে একটি বিশেষ চক্র এসব সিদ্ধান্ত গোপনে বাস্তবায়ন করেছে, যা মেধার চরম অবমাননা।
নার্সদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে তারা অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেয়নি। বাধ্য হয়েই তারা আন্দোলনে নামেন। তারা অবিলম্বে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার এবং বাদ পড়া যোগ্য নার্সদের পুনর্বহালের জোর দাবি জানান।
বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তি ও কোটা লঙ্ঘন
গত বছরের ১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ৮০০ জন ‘সিনিয়র স্টাফ নার্স’ নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সেখানে ৯৩ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ। ডিপ্লোমা ও বিএসসি ডিগ্রিধারী যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পায়তারা চলছে বলে আন্দোলনকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।