ট্রাম্পের সমালোচনার জেরে হত্যার হুমকি: সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়লেন অলিম্পিয়ান অ্যাম্বার গ্লেন
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করে চরম বিপাকে পড়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অলিম্পিয়ান অ্যাম্বার গ্লেন। প্রথম ‘কুয়্যার’ নারী অ্যাথলেট হিসেবে অলিম্পিকে অংশ নেওয়া অ্যাম্বার অনলাইনে ক্রমাগত হত্যার হুমকি পাওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ২৬ বছর বয়সী এই ক্রীড়াবিদ জানান, এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের প্রতি ট্রাম্পের মনোভাবের সমালোচনা করায় তাকে বিদ্বেষপূর্ণ আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি মিলানে এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাম্বার তার সম্প্রদায়ের মানুষের কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেন এবং মানসিক দৃঢ়তার আহ্বান জানান। কিন্তু তার এই বাকস্বাধীনতার চর্চা কাল হয়ে দাঁড়ায়। শনিবার ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেন, “আমেরিকার অন্যতম শক্তি বাকস্বাধীনতা। কিন্তু সেই শক্তি ব্যবহার করে মনের কথা বলায় আমাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।” মানসিক সুস্থতার কথা ভেবে তিনি অনলাইন জগত থেকে দূরে সরে গেলেও নিজের বিশ্বাস থেকে সরে না আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাজনীতি ও খেলোয়াড়
যারা ক্রীড়াবিদদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন, তাদের কড়া জবাব দিয়েছেন অ্যাম্বার। তিনি বলেন, “রাজনীতি আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে। তাই এই বিষয়ে আমি নীরব থাকব না।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, খেলার মাঠে থাকলেও দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা তাকেও স্পর্শ করে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা তার অধিকার।
শুধু অ্যাম্বার নন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অস্থিরতার আঁচ লেগেছে অন্য ক্রীড়াবিদদের গায়েও। ফ্রিস্টাইল স্কিয়ার ক্রিস লিলিস ও হান্টার হেস-ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি মিনেসোটায় ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে নাগরিক মৃত্যু এবং আইসিই-এর কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উত্তেজনা বিরাজ করছে, যার প্রভাব পড়েছে মিলান অলিম্পিক ভিলেজেও।
অলিম্পিক মঞ্চে দুয়োধ্বনি
রাজনৈতিক উত্তাপের রেশ দেখা গেছে অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও। স্টেডিয়ামের পর্দায় যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ছবি দেখানো হয়, তখন দর্শকদের একাংশ দুয়োধ্বনি দেন। আয়োজক শহরে অভিবাসন নীতি ও বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাথলেটরা এক অস্বস্তিকর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, যার কেন্দ্রে এখন অ্যাম্বার গ্লেনের এই ঘটনা।