এক মাসেই ব্যাংকে ফিরল ৪ হাজার কোটি টাকা, অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা
দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও আস্থার সংকট কাটিয়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে আবারও সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। গ্রাহকদের আস্থা ফেরার ফলে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংকিং চ্যানেলে ফিরে এসেছে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি নগদ অর্থ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে আসা এই তথ্য অর্থনীতির জন্য এক বড় স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
আতঙ্কের দিন শেষে আস্থার প্রত্যাবর্তন
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসেও মানুষের হাতে নগদ টাকার স্থিতি ছিল ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা। তবে অক্টোবর মাসে সেই অঙ্ক কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৪৯ কোটিতে। অর্থাৎ, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মানুষের হাত থেকে ব্যাংকে ফিরেছে প্রায় ৪ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। বিগত সরকারের আমলে ব্যাংকিং খাতে নজিরবিহীন অনিয়ম ও লুটপাটের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল, যার ফলে অনেকেই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিজের কাছে জমা রাখতে শুরু করেছিলেন।
অর্থনীতির চাকায় নতুন গতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরে অলস পড়ে থাকা টাকা অর্থনীতির জন্য কোনো সুফল বয়ে আনে না। মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, “মানুষের হাতে থাকা অলস টাকা যখন ব্যাংকিং চ্যানেলে ফিরে আসে, তখন তা বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থান তৈরিতে ভূমিকা রাখে।” তিনি মনে করেন, এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখতে হলে ব্যাংক খাতে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভয়বাণী
একই সুরে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি জানান, মানুষের ভয় কাটতে শুরু করেছে এবং তারা আবারও ব্যাংকের ওপর আস্থা রাখছেন। গ্রাহকদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং ব্যাংকগুলোকে নিয়ম-নীতি মেনে চলার কড়া নির্দেশ দিয়েছে। অর্থের এই উল্টো স্রোত ব্যাংকগুলোর দীর্ঘদিনের তারল্য সংকট কাটাতেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত বছরের আগস্টের পর থেকে পরিস্থিতির এই নাটকীয় পরিবর্তন দেশের আর্থিক খাতের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক মোড়। চরম তারল্য সংকটে পড়ে ব্যাংকগুলো যখন উচ্চ সুদেও আমানত পেতে হিমশিম খাচ্ছিল, তখন নগদ টাকার এই প্রবাহ স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ও নীতি-নির্ধারকরা আশাবাদী যে, সুশাসন এবং অর্থ পাচার রোধে কঠোর অবস্থান ধরে রাখতে পারলে ব্যাংকিং খাত শীঘ্রই তার পূর্ণ প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে।