পাবনায় ছাত্রদলের পতাকাতলে শতাধিক বৈষম্যবিরোধী কর্মী যোগ দিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছেন
পাবনার ছাত্র রাজনীতির অঙ্গনে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে যা রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় ছাত্রশক্তি এবং 'জুলাই যোদ্ধা' সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদান করেছেন। বুধবার বিকেলে পাবনা জেলা ছাত্রদলের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই যোগদান সম্পন্ন হয় যা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নবাগত কর্মীদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ পাবনার ছাত্র রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ ঘটাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শিমুল বিশ্বাসের হাতে পথচলা
পাবনার হাজীরহাট, ব্রজনাথপুর ও দোগাছী এলাকায় আয়োজিত এই যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী ও সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের হাত ধরে তারা ছাত্রদলে যোগ দেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ নিলয়ের পিতা আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে পরিচালিত হয়। এস কে নূরুজ্জামান সাগর এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যেখানে শতাধিক তরুণ শপথ গ্রহণ করেন।
গণতান্ত্রিক সংগ্রামে নতুন শক্তি
নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে শিমুল বিশ্বাস বলেন যে তরুণ প্রজন্মের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে ছাত্রদল হলো গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং অধিকারভিত্তিক রাজনীতির একটি শক্তিশালী সংগঠন যা তরুণদের ভরসাস্থল। তরুণদের এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলে আখ্যা দিয়ে তিনি তাদের আগামীর কাণ্ডারি হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, "তরুণরাই পারবে একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করতে।"
জেলা নেতৃত্বের বলিষ্ঠ বার্তা
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাবনা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান প্রিন্স যিনি কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেন। বিশেষ বক্তা ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদুল হাসান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন। তারা ছাত্রদলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশপ্রেম ও আদর্শের ভিত্তিতে রাজনীতি করার পরামর্শ প্রদান করেন। নেতারা বিশ্বাস করেন যে নতুন এই শক্তি পাবনায় ছাত্রদলকে আরও গতিশীল ও অপ্রতিরোধ্য করে তুলবে।
দোয়া ও শেষ প্রার্থনা
যোগদানকারীদের মধ্যে হাবিবুর রহমান শান্ত, মাহমুদুল হাসান, সিয়াম রহমান এবং মো. রোহান হোসেনসহ অসংখ্য উদ্যমী তরুণ ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং দেশের সমৃদ্ধি অর্জনে মহান আল্লাহর দরবারে সাহায্য প্রার্থনা করা হয়। উপস্থিত সকল নেতাকর্মী অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নতুন কর্মীদের বরণ করে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করেন।