সর্বশেষ
Loading breaking news...

এক বলের ত্রুটি আর বিদায়! পাকিস্তানের সেমিফাইনাল স্বপ্ন এখন গণিত ও ভাগ্যের দোলাচলে

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের দৌড়ে পাকিস্তানের টিকে থাকার স্বপ্ন এখন কেবল একটি জয়ের ওপর নয়, বরং জটিল এক গাণিতিক সমীকরণ ও নেট রান রেটের ওপর নির্ভরশীল। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের রোমাঞ্চকর জয় পাকিস্তানের সামনে এক ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ইংল্যান্ড অপরাজিত থেকে শেষ চার নিশ্চিত করলেও, দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালের লড়াই এখন নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যে।

কঠিন সমীকরণের মারপ্যাঁচ

সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাবর আজমদের কেবল জয় পেলেই চলবে না, একই সাথে নিউজিল্যান্ডের নেট রান রেটকে টপকে যেতে হবে। সুপার এইটের গ্রুপ ২-এ নিউজিল্যান্ড ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট এবং প্লাস ১.৩৯০ এনআরআর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, ২ ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট অর্জনকারী পাকিস্তানের নেট রান রেট মাইনাস ০.৪৬১, যা তাদের অবস্থানকে অত্যন্ত নাজুক করে তুলেছে।

এই লক্ষ্য পূরণের জন্য পাকিস্তানের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কমপক্ষে ৬৩ রানের ব্যবধানে জিততে হবে। উদাহরণস্বরূপ, তারা ১৫০ রান করলে শ্রীলঙ্কাকে ৮৭ রানের মধ্যে আটকে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, পাকিস্তান পরে ব্যাট করলে যেকোনো লক্ষ্য ১২.৪ ওভারের মধ্যে ছুঁতে হবে। এই সময়সীমার এক বল বেশি লাগলেই বিশ্বকাপ থেকে তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাবে।

পিচের চ্যালেঞ্জ ও ভাগ্য

পাল্লেকেলের মন্থর উইকেটে বড় রান তোলা কিংবা দ্রুত রান তাড়া করা উভয় ক্ষেত্রেই স্পিনাররা বড় বাধা হতে পারেন। এই মাঠেই কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৯৫ রানে অলআউট হয়েছিল। পাকিস্তানও এই মাঠে ১৬৪ রান করেও ম্যাচ রক্ষা করতে পারেনি। তবে শ্রীলঙ্কা টানা তিনটি ম্যাচে হেরে মানসিকভাবে কিছুটা চাপে আছে, যা পাকিস্তানের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে।

পাল্লেকেলেতে আজ বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, ফলে পূর্ণ ২০ ওভারের খেলা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অর্থাৎ মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলানোর সম্পূর্ণ সুযোগ থাকছে বাবর আজমদের সামনে। তবে নির্ধারিত এই কঠিন সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ হলে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিতভাবেই কিউইরা পাবে। পাকিস্তানের সমর্থকদের জন্য আজকের ম্যাচটি হবে এক চরম স্নায়ুচাপের পরীক্ষা, যেখানে প্রতি বলের গুরুত্ব অপরিসীম।

আরও পড়ুন