পাকিস্তানের বিধ্বংসী বিমান হামলায় রণক্ষেত্র আফগানিস্তান: ৬৭০ জনের বেশি হতাহতের ঘটনায় চরম উত্তেজনা
প্রতিবেশী দুই দেশের দীর্ঘদিনের চাপা উত্তেজনা এখন প্রলয়ঙ্করী সংঘাতে রূপ নিয়েছে। আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ অভিযানে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে একের পর এক সামরিক লক্ষ্যবস্তু। রাতভর চালানো এই হামলায় কমপক্ষে ২৭৪ জন তালেবান যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৪ শতাধিক। সীমান্তের ওপারে ২২টি সামরিক অবস্থানে এই অতর্কিত হামলায় কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে দুই দেশের সীমান্ত এলাকা।
আকাশপথে প্রলয়ঙ্করী ‘গজব আল-হক’: ধ্বংসস্তূপে পরিণত সীমান্ত চৌকি
পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘গজব আল-হক’ নামের এই বিশেষ অভিযানে সীমান্তের বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থানে নির্ভুল লক্ষ্যভেদে হামলা চালানো হয়েছে। সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে আফগান বাহিনীর ৮৩টি সীমান্ত চৌকি পুরোপুরি ধূলিসাৎ করা হয়েছে এবং আরও ১৭টি চৌকি নিজেদের দখলে নিয়েছে পাকিস্তান। ধ্বংসলীলার এখানেই শেষ নয়; অন্তত ১১৫টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান ও আর্টিলারি ইউনিট এই হামলায় অকেজো হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে পাকিস্তানের অন্তত ১২ জন সেনাসদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন।
কূটনীতির দফারফা: উন্মুক্ত যুদ্ধের ডাক ও পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলা
উত্তেজনার পারদ আরও উসকে দিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আফগান সরকারের বিরুদ্ধে কার্যত ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন। সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পাল্টা দাবি করেছে যে, তারা পাকিস্তানের ভেতরে সফল ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যদিও পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় সেই দাবি নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সমস্ত ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। রণংদেহি এই পরিস্থিতির মধ্যেও আফগান তালেবানের একজন মুখপাত্র আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ খোলা রাখার কথা জানিয়েছেন।
বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কালো মেঘ: নেপথ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সংঘাত
আকস্মিক এই সামরিক সংঘাতের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান অবিলম্বে উভয় পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে ভারত এই বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। দীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় কাতার ও তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ মধ্যস্থতার আগ্রহ দেখালেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে সীমান্ত বন্ধ থাকার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটে। পাকিস্তান বারবার অভিযোগ করে আসছে যে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, যা কাবুল বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।