বিশ্বকাপে ফখর-ফারহানের রেকর্ড গড়া জুটিতেও ভাগ্য ফিরল না পাকিস্তানের
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সুপার এইটের শেষ ম্যাচেও নিজেদের ব্যাটিং দক্ষতার চূড়ান্ত প্রদর্শনী দেখাল পাকিস্তান। তবে দলের বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গ হলো রান রেটের জটিল সমীকরণে। এই ম্যাচে ইতিহাস গড়েন উদ্বোধনী জুটি—সাহিবজাদা ফারহান এবং ফখর জামান। দুজনে মিলে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন অবিশ্বাস্য ২১২ রান, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের রেকর্ড। পাল্লেকেলেতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে তারা ১৭৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নতুন রেকর্ড স্থাপন করেন।
ক্রিস গেইলের রেকর্ডে ভাগ বসালেন ফারহান
সাহিবজাদা ফারহান এই ম্যাচে ৫৯ বলে নয়টি চার ও পাঁচটি ছক্কার সাহায্যে নিজের শতক পূর্ণ করেন। এই শতরানের সুবাদে তিনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে দুটি সেঞ্চুরি করার প্রথম ব্যাটার হিসেবে ক্রিস গেইলের রেকর্ডে ভাগ বসালেন। গেইল ২০০৭ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ছয়টি আসরে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন, আর ফারহান তার অভিষেক বিশ্বকাপেই মাত্র ছয় ইনিংসে এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন।
ফখর জামানও কম যাননি; ৪২ বলে ৮৪ রান করে তিনি আউট হন। তাঁর ইনিংসে ছিল নয়টি চার ও চারটি ছক্কা। তাদের এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ফলে পাকিস্তান বিশাল সংগ্রহ পেলেও, টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় আটকানো সম্ভব হয়নি। রান রেটের সমীকরণে পিছিয়ে পড়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করতে হলো বাবর আজমের দলকে।
এক আসরে সর্বোচ্চ রানের মালিক
শুধু সেঞ্চুরির রেকর্ডই নয়, এক বিশ্বকাপ আসরে সর্বোচ্চ রানের মালিকানাও এখন ফারহানের দখলে। চলতি আসরের ছয় ইনিংসে ৯৫.৭৫ গড় রেখে তিনি সংগ্রহ করেছেন মোট ৩৮৩ রান। এর আগে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে বিরাট কোহলির ৩১৯ রান সংগ্রহের রেকর্ডটি ভেঙে দিলেন তিনি। ব্যক্তিগত অর্জনে উজ্জ্বল হলেও দলগত ব্যর্থতায় ম্লান হয়ে রইল ফারহানের এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্স।
পাকিস্তানের এই বিদায় ক্রিকেট ভক্তদের জন্য হতাশাজনক হলেও ফখর ও ফারহানের ব্যাটিং প্রদর্শনী ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে ফারহানের ধারাবাহিকতা এবং বড় মঞ্চে জ্বলে ওঠার ক্ষমতা তাকে বিশ্ব ক্রিকেটের নতুন তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে ক্রিকেট যে শেষ পর্যন্ত দলীয় খেলা, পাকিস্তানের বিদায় সেটাই পুনরায় প্রমাণ করল।