গণভোট সুষ্ঠু করতে গ্রামপুলিশের ওপর গুরুদায়িত্ব দিয়ে পঞ্চগড় প্রশাসনের কঠোর বার্তা
আসন্ন গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে মাঠপর্যায়ের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ সদস্যদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এই সভাটিতে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা গ্রামপুলিশের ভূমিকা সুনির্দিষ্ট করে কঠোর বার্তা প্রদান করেন। তৃণমূল পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাফল্যের জন্য অপরিহার্য বলে প্রশাসন জোর দেয়।
সভায় গণভোটের আইনি গুরুত্ব, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গ্রামপুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা করা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনকালীন সময়ে যেকোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গ্রামপুলিশের সক্রিয় উপস্থিতি অপরিহার্য। গ্রামীণ জনপদে প্রথম স্তরের প্রহরী হিসেবে তাদের সতর্ক থাকা এবং নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করার কোনো বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করা হয়।
অবাধ ভোটের চাবিকাঠি ও নির্দেশিকা
অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে গণভোট সম্পন্ন করার জন্য গ্রামপুলিশ সদস্যদের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বক্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ভোটকেন্দ্র ও এর আশপাশে নিরবচ্ছিন্ন শান্তি বজায় রাখার মূল দায়িত্ব মাঠপর্যায়ের গ্রামপুলিশদেরই নিতে হবে। পেশাদারিত্ব ও সততার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত হলে নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নাতীত থাকবে বলে তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
প্রশাসনিক কর্তাদের কড়া নজরদারি
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এবং পৌর প্রশাসক সীমা শারমিন এবং জেলা নির্বাচন অফিসার মঞ্জুরুল ইসলাম। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত গ্রামপুলিশ সদস্যরাও তাদের মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে গ্রামপুলিশ সদস্যদের হাতে গণভোটের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত সচেতনতামূলক নির্দেশিকা (লিফলেট) তুলে দেওয়া হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে শেষ বার্তায় জানানো হয়, দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যেকোনো অনাচার রোধে প্রশাসনের ‘চোখ ও কান’ হিসেবে কাজ করার জন্য গ্রামপুলিশদের আহ্বান জানানো হয়। আসন্ন ভোটের পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর প্রস্তুতি এবং নিবিড় তদারকির প্রমাণ হিসেবেই এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।