বাংলাদেশই আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা: কর্মকর্তাদের সুশাসনে জোর দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেছেন, 'আমরা এই বাংলাদেশকে আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা হিসেবে বিবেচনা করি। এই মাটির মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও ভাগ্যের ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।' তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন তিনি।
ইশতেহার বাস্তবায়নে এক মহাযজ্ঞের সূচনা
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ জাতীয়তাবাদী দলের মেনিফেস্টোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারী উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও ক্রীড়াসহ প্রতিটি জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি। তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সাধারণ মানুষ বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে এই সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। প্রশাসনিক সহযোগিতা ছাড়া এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করা সম্ভব নয়।
দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। প্রতিটি নাগরিক যেন দেশে নিরাপদ বোধ করেন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে তৎপর হতে হবে। একইসঙ্গে তিনি দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূলে কর্মকর্তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের কঠোরভাবে সরকারি নিয়ম-নীতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, একটি সুশৃঙ্খল জাতি গঠনে প্রশাসনের শৃঙ্খলা বজায় রাখা অপরিহার্য।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং কার্যালয়ের গঠন ও কার্যাবলী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশিষ্ট উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, হুমায়ুন কবির প্রমুখ।
সরকারের গোপনীয়তা রক্ষা এবং প্রশাসনিক কাজে গতি আনার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এই মতবিনিময় সভা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।