ঢাকার ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর মাস্টারপ্ল্যান: ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক তৈরির নির্দেশ
রাজধানী ঢাকায় সম্ভাব্য ভূমিকম্পের মহাবিপর্যয় মোকাবিলায় একটি বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় এক লাখ দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে দুর্যোগকালীন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য রাজধানীর খেলার মাঠ ও স্কুলগুলোকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করার নির্দেশনাও দিয়েছেন। ঢাকার অতিমাত্রায় জনবহুল এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকার অপরিকল্পিত নগরায়ন ও মহাবিপর্যয়ের ঝুঁকি
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ঢাকা অত্যন্ত জনবহুল ও অপরিকল্পিত একটি নগরী। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে এখানে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, যেকোনো জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকা অপরিহার্য। তাই তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকায় ১ লাখ প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তারা যেন তাৎক্ষণিক সাড়া দিতে পারে, সেই লক্ষ্যে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই স্বেচ্ছাসেবকরা ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার এবং প্রাথমিক চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকারের এই আগাম প্রস্তুতি জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়তা করবে।
চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে বৈঠক
আসাদুল হাবিব দুলু আরও বলেন, ভূমিকম্প পরবর্তী সময়ে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী খোলামেলা জায়গা হিসেবে রাজধানীর খেলার মাঠ ও বিভিন্ন স্কুলকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করার কথা বলেছেন। যেন দুর্যোগের পরপরই মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। খোলা জায়গার অভাব ঢাকায় একটি বড় সমস্যা, তাই এই চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়া জরুরি।
মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে একটি প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি শুরু করেছে। মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে এই কর্মপরিকল্পনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।