ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক পাচারের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিলো পুলিশ, দুই নারী আটক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ দুই নারীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই ঝটিকা অভিযানে প্রায় আট কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যা ওই অঞ্চলের মাদক চোরাচালান চক্রের ওপর একটি বড় আঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পুলিশের এই তৎপরতায় স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরে আসার পাশাপাশি মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মধ্যরাতে কবরস্থানের পাশে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান
গত সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে বাঞ্ছারামপুর থানাধীন ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের ফতেহপুর কবরস্থান সংলগ্ন ব্রিজের ওপর এই সফল অভিযানটি পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দীর্ঘ সময় ধরে চলা নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই সলফা থেকে ফেরিঘাটগামী সড়কের নির্জন এই স্থানে পুলিশ অবস্থান নেয়। গ্রেফতারকৃতদের বহন করা ব্যাগ তল্লাশি করে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা গাঁজার প্যাকেটগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়, যা পাচারকারীদের অভিনব কৌশলের ইঙ্গিত দেয়।
ঢাকা ও কুষ্টিয়ার সংযোগে আন্তঃজেলা নেটওয়ার্ক
গ্রেফতারকৃত দুই নারীর পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ জানিয়েছে, তারা আন্তঃজেলা মাদক পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। এদের মধ্যে একজন ঢাকার ধামরাই থানার বাসিন্দা মোহাম্মদ ওরফে মামুদ আলীর স্ত্রী নাজমা বেগম (৫০) এবং অন্যজন কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার মো. রমজান আলীর স্ত্রী পাপড়ী আক্তার (২২)। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতেই এই চক্রটি ‘নারীদের বাহক হিসেবে’ ব্যবহার করে বিভিন্ন জেলায় মাদক সরবরাহ করে আসছিল।
আইনি প্রক্রিয়ার পথে অভিযুক্তরা
গ্রেফতারের পরপরই ওই দুই নারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বাঞ্ছারামপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের এই বড় চালানটি কোথা থেকে আসছিল এবং এর চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায় ছিল, তা উদঘাটনে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করার পরিকল্পনা করছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা আশা করছেন, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের নাম বেরিয়ে আসবে।
মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়
এই অভিযানের ফলে ওই অঞ্চলের মাদক চোরাচালানের শক্তিশালী নেটওয়ার্কটি সাময়িকভাবে হলেও ভেঙে পড়বে বলে আশা করছে স্থানীয় প্রশাসন। বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।