সর্বশেষ
Loading breaking news...

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় থমকে গেছে বিনিয়োগ ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির গতি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বর্তমানে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বেশ মন্থর হয়ে পড়েছে। কাঙ্ক্ষিত বেসরকারি বিনিয়োগ না আসার কারণেই এই মন্দাভাব সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা "ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ"। এই স্থবিরতা কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যা নীতিনির্ধারকদের জন্য উদ্বেগের কারণ। তবে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি দেখা যাচ্ছে যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সংকট

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নের হার আশানুরূপ না হওয়ার কারণ অত্যন্ত খোলামেলাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন উপদেষ্টা। তিনি জানান যে কেবল অর্থনৈতিক মন্দা এডিপি হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচ্য নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে গভীরে জেঁকে বসা প্রশাসনিক জটিলতা এবং দুর্নীতির কালো ছায়া। বহু পুরোনো প্রকল্পের পরিচালকদের খুঁজে না পাওয়া এবং নতুন প্রকল্প অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রিতা প্রকট হয়ে উঠেছে। ফলে একাধিক প্রকল্পের সংশোধন এবং দরপত্রের নতুন বিধিমালার কারণে এবার উন্নয়ন কর্মসূচির অগ্রগতি আশঙ্কাজনকভাবে কম।

প্রশাসনিক কাঠামোগত পরিবর্তন

এডিপি বাস্তবায়নের স্থবিরতা কাটাতে এবং গতি ফেরাতে সরকার বর্তমানে কিছু দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে দক্ষ প্রকল্প পরিচালকদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ পুল গঠন করা হয়েছে যা তদারকি বাড়াবে। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অধীনে যেসব প্রকল্পের ব্যয় ৫০ কোটি টাকার মধ্যে সেগুলোর অনুমোদন উপদেষ্টা দিতে পারবেন। তবে ৫০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে ব্যয়ের প্রকল্পগুলো অবশ্যই একনেকের অনুমোদনের জন্য পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অত্যন্ত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রতিটি প্রকল্প গ্রহণের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

বিদেশি ঋণের কৌশলগত অবস্থান

উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের বিষয়েও অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ড. মাহমুদ। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে শিক্ষা বা স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করা হঠকারী। অতীতে উন্নয়ন সহযোগীরা ঋণের প্রস্তাব দিলেই তা গ্রহণ করা হতো যা দেশের জন্য মঙ্গলজনক ছিল না। এখন থেকে ঋণের প্রস্তাবগুলো দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা যাচাই করা হবে। সরকার ঋণের ফাঁদ এড়িয়ে চলার কৌশলগত পথে হাঁটার চেষ্টা করছে যা টেকসই অর্থনীতির জন্য জরুরি।

মেগা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

পায়রা বন্দর বা মেট্রোরেলের মতো মেগা প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন এবং চূড়ান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব পরবর্তী সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কেবল বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং সীমিত তদারকি বজায় রাখবে। বিগত সরকারের আমলে লাগামহীনভাবে প্রকল্প অনুমোদনের যে সংস্কৃতি ছিল তা থেকে বর্তমান প্রশাসন বেরিয়ে এসেছে। ফলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এখন নতুন প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।

আরও পড়ুন