কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞার কারণে অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড়াই মাঠে নামার কথা ছিল পর্তুগাল জাতীয় দলের। তবে এবার অপ্রত্যাশিত এক নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়েছে দলটির আসন্ন মেক্সিকো সফর। মার্চে দুটি প্রীতি ম্যাচের সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই মেক্সিকোতে রক্তক্ষয়ী সহিংসতা শুরু হওয়ায় পর্তুগিজ ফুটবলের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ফুটবলের সূচিকেও প্রভাবিত করতে পারে।
ভয়ংকর মাদক-যুদ্ধ: কেঁপে উঠল আজতেকা স্টেডিয়ামের শহর
আগামী ২৯ মার্চ আজতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে পর্তুগালের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে এই পরিকল্পনা এখন ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সম্প্রতি এক বিশেষ সেনা অভিযানে দেশটির শীর্ষ মাদক সম্রাট এবং কুখ্যাত জালিস্কো কার্টেলের প্রধান নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা কেরভান্তেস (এল মেঞ্চো) নিহত হন।
সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র ও ম্যাচ স্থগিত
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুয়ের্তো ভাল্লার্তায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ, পুলিশ স্টেশনে হামলা এবং একাধিক গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ন্যাশনাল গার্ডের ২৫ জন সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ চারটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ স্থগিত ঘোষণা করেছে, যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
বিশ্বকাপের দ্বারপ্রান্তে জাতীয় দলের নিরাপত্তা প্রশ্ন, ফেডারেশনের সতর্কতা
সামাজিক অস্থিরতার এই পরিস্থিতিতে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা জানিয়েছে, মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং ভ্রমণকারী সমর্থকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমানে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। উল্লেখ্য, আগামী ১১ জুন আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটিও এই আজতেকা স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যেখানে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
প্রতিপক্ষের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, আশার আলো দেখাচ্ছে প্রেসিডেন্ট
বিশ্বকাপের মাত্র তিন মাস আগে এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মেক্সিকোর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মেক্সিকোর কোচ হাভিয়ের আগুইরে পর্তুগালের উদ্বেগ প্রকাশকে ‘স্বাভাবিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং পরিস্থিতি মূল্যায়নের অধিকার তাদের রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাম আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য আগত বিদেশি সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি থাকবে না। পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল হলে পর্তুগালের বিপক্ষে নির্ধারিত প্রীতি ম্যাচটি পরিকল্পনা অনুযায়ী আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে।