সর্বশেষ
Loading breaking news...

তুচ্ছ ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বাকে কুপিয়ে হত্যা ভারতে পালানোর ঠিক আগমুহূর্তে সীমান্তে গ্রেপ্তার

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ ফাহিমা আক্তার আঁখিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই গা ঢাকা দেওয়া প্রধান তিন আসামিকে অবশেষে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। প্রতিবেশী দেশ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে সীমান্ত এলাকা থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সহায়তায় তাদের আটক করা হয়।

সীমান্তে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে হত্যাকারীরা আইন ফাঁকি দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই তথ্য পাওয়ার পর কালক্ষেপণ না করে পুলিশের একটি চৌকস দল নিয়ে তিনি দ্রুত সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করেন। পরিস্থিতির স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় সহায়তা নেওয়া হয় সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি)। যৌথ প্রচেষ্টায় সীমান্ত অতিক্রম করার ঠিক আগমুহূর্তে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

রক্তাক্ত রবিবার ও নেপথ্যের কাহিনি

এর আগে গত রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে এক মর্মান্তিক ঘটনা স্তব্ধ করে দেয় পুরো জগতপুর (নাগরবাড়ি) গ্রামকে। শিশুদের ব্যবহৃত 'প্যাম্পার্স' ফেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দুই পরিবারের মধ্যে সূত্রপাত হয় এক তুচ্ছ বিবাদের। আর সেই তর্কের জের ধরেই অন্তঃসত্ত্বা ফাহিমা আক্তার আঁখিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই পৈশাচিক হামলায় তিনি ছাড়াও আরও তিনজন গুরুতর আহত হন।

আসামিদের গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. সাইদুর রহমান (২৪), দ্বিতীয় আসামি শাফিউল জান্নাত প্রকাশ সিয়াম (১৯) এবং চতুর্থ আসামি শাহারিয়ার নাজিম জয় (১৯)। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আইনি প্রক্রিয়া চলমান

পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করছে যে, সমস্ত প্রমাণ সঠিকভাবে সংগ্রহ ও প্রক্রিয়া করা হবে যাতে অপরাধীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়। এই ঘটনাটি নিহত ভুক্তভোগী এবং তার পরিবারের জন্য দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেছে। পুলিশ বিভাগ একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।

আরও পড়ুন