সর্বশেষ
Loading breaking news...

বাণিজ্যিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তিতে 'বাণিজ্যিক আদালত' প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ব্যবসায়িক ও বাণিজ্যিক বিরোধগুলো দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো 'বাণিজ্যিক আদালত' বা কমার্শিয়াল কোর্ট প্রতিষ্ঠার বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) সকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে এই অধ্যাদেশ জারির প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। এর ফলে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা বাণিজ্যিক মামলাগুলো দ্রুত সুরাহা হবে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন গতি

 

 

 

এতদিন সাধারণ দেওয়ানি আদালতে বাণিজ্যিক বিরোধগুলোর বিচার হতো, যা ছিল দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল প্রক্রিয়া। নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট অর্থের ওপরের বাণিজ্যিক দাবিগুলোর বিচারের জন্য পৃথক আদালত গঠন করা হবে। এই আদালতগুলোতে বিশেষায়িত বিচারকরা দায়িত্ব পালন করবেন, যারা বাণিজ্যিক আইন ও লেনদেন সম্পর্কে অভিজ্ঞ। এর ফলে মামলার জট কমবে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আসবে।

 

 

 

বিদেশি বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব

 

 

 

বাণিজ্যিক আদালতের অনুপস্থিতি অনেক সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করত। বিরোধ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দেয় এবং অনিশ্চয়তা তৈরি করে। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, এটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একটি স্বচ্ছ ও দ্রুত বিচার ব্যবস্থা থাকলে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আরও আগ্রহী হবে।

 

 

 

ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি

 

 

 

এফবিসিসিআইসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরেই পৃথক বাণিজ্যিক আদালত গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের মতে, ব্যাংক ঋণ, চুক্তিভঙ্গ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত বিরোধগুলো সাধারণ আদালতে বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। নতুন আদালতের মাধ্যমে এসব সমস্যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব হবে। সরকার ব্যবসায়ীদের এই যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

 

 

 

বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তুতি

 

 

 

অধ্যাদেশ জারি হলেও এর সফল বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা। পর্যাপ্ত বিচারক নিয়োগ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং সহায়ক জনবল তৈরি করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিধিমালা প্রণয়ন করে আদালতের কার্যক্রম শুরু করা হবে। বিচারকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে যাতে তারা দক্ষতার সঙ্গে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারেন।

 

আরও পড়ুন