ভারতে পালানোর স্বপ্নভঙ্গ: নরসিংদীতে কিশোরী আমিনা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মূল হোতা নূরা গ্রেফতার
নরসিংদীতে কিশোরী আমিনা খাতুনকে বর্বরোচিত ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ নূরাকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার অন্যতম এই মূল পরিকল্পনাকারী প্রতিবেশী দেশ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে সীমান্তের দিকে অগ্রসর হওয়ার আগেই গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে তাকে আটক করা হয়। একই অভিযানে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে মামলার অন্যান্য সহযোগীদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর মামলায় এখন পর্যন্ত পুলিশ মোট সাতজনকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে, যার মধ্যে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজন এবং তদন্তে বাধা প্রদানকারী তিনজন রয়েছে।
সীমান্তের কাঁটাতারে পালানোর শেষ চেষ্টা
নরসিংদীর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ-আল-ফারুক জানান, অপরাধ সংঘটনের পরপরই মূল আসামি নূরা দেশত্যাগের ছক কষেছিলেন। তিনি নিজেকে বাঁচাতে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারির কারণে তার সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পুলিশ জানায়, আমিনা খাতুনকে তার বাবার কোল থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার পর নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়। পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত বুধবার রাতে আমিনা খাতুনকে অপহরণ করা হয় এবং বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি নির্জন সরষে ক্ষেতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় আমিনার নিথর দেহ উদ্ধারের পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ময়নাতদন্ত শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। এই পৈশাচিক ঘটনা স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে এবং তারা দোষীদের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে কঠোর বার্তা ও বিচার প্রক্রিয়া
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক মেম্বার আহাম্মদ আলীকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এবং অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আগামী রবিবার বিজ্ঞ আদালত এই রিমান্ডের বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে। পুলিশ বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে, প্রধান আসামি নূরা ও তার সহযোগী হযরত আলীকে বিশেষ রিমান্ডে এনে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হবে, যাতে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি খুঁটিনাটি তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়।