সর্বশেষ
Loading breaking news...

এপস্টাইন ফাইলে সাক্ষ্য দিতে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ওপর চাপ; প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের নতুন তথ্যের ভিত্তিতে ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে ঘিরে বিতর্ক চরমে পৌঁছেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার কঠোর অবস্থান নিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, এপস্টাইন সংক্রান্ত সমস্ত প্রশ্নের জবাব দিতে অ্যান্ড্রুর উচিত মার্কিন কংগ্রেসের কমিটির সামনে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেওয়া। জাপানে রাষ্ট্রীয় সফরের পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্টারমার এই মন্তব্য করেন, যা রাজপরিবারের উপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।

নতুন তথ্যের বোমা

স্টারমার স্পষ্ট জানান, যাদের কাছে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য রয়েছে, তাদের তা যথাযথভাবে জনসাধারণের সাথে ভাগ করে নেওয়া উচিত। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টাইন সম্পর্কিত যে নতুন নথি প্রকাশ করেছে, তা অ্যান্ড্রুর অবস্থানকে গুরুতর সংকটে ফেলেছে। এই নথিপত্র অনুযায়ী, ২০০৮ সালে এপস্টাইন যখন শিশু যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন, তার পরেও প্রায় দুই বছর ধরে অ্যান্ড্রু তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।

ছবি ও উপাধি

প্রকাশিত নথিতে একটি চাঞ্চল্যকর ছবিও রয়েছে, যেখানে অ্যান্ড্রুকে একজন অজ্ঞাত পরিচয় নারীর সাথে আপত্তিকর পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে। এই নতুন তথ্য অ্যান্ড্রুর পূর্বে দেওয়া ব্যাখ্যাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। উল্লেখ্য, এপস্টাইন বিতর্কের জেরেই গত নভেম্বরে রাজা তৃতীয় চার্লস অ্যান্ড্রুর কাছ থেকে ‘প্রিন্স’ উপাধি কেড়ে নেন এবং উইন্ডসর ক্যাসেলের সরকারি বাসস্থান থেকে তাঁকে উচ্ছেদ করেন। বর্তমানে ৬৫ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু পারিবারিক নাম ব্যবহার করছেন।

ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার দাবি

মার্কিন কংগ্রেসের একটি কমিটি ইতিমধ্যেই গত নভেম্বর মাস থেকে অ্যান্ড্রুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। এপস্টাইন ২০১৯ সালে কারাগারে আত্মহত্যা করার পর তাঁর শিকার হওয়া ব্যক্তিরা এখনও ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করছেন। এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে এবং সত্য উন্মোচনে অ্যান্ড্রুর সাক্ষ্য প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

রাজপরিবারের নীরব ভূমিকা

প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি মন্তব্য রাজপরিবারের উপর কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে বাকিংহাম প্যালেস থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। জনগণের নজর এখন রাজপরিবারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

আরও পড়ুন