সর্বশেষ
Loading breaking news...

অর্থনীতির চালিকাশক্তি ব্যক্তি খাত: প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নতুন সরকারের সামনে ৫ চ্যালেঞ্জ

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

স্বাধীনতার পর গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যক্তি খাতের অভাবনীয় উত্থান ঘটেছে। এই বিকাশ সম্ভব হয়েছে উদ্যোক্তাদের সাহস এবং বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দূরদর্শী নীতির কারণে। বিশেষ করে অতীতে বিএনপি সরকারের আমলে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিনিয়োগবান্ধব নীতি এই খাতের ভিত মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমানে দেশের কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ব্যক্তি খাত। তবে অর্থনীতির এই গতি ধরে রাখতে নতুন সরকারকে এখন পাঁচটি প্রধান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মতে, ব্যক্তি খাত এখন বিলিয়ন ডলারের স্থানীয় বাজার এবং ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি আয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছে। কিন্তু বৈশ্বিক মন্দা ও অভ্যন্তরীণ নানা জটিলতায় এই অগ্রযাত্রা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের আশু করণীয় হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসার পরিবেশ স্থিতিশীল না থাকলে নতুন বিনিয়োগ আসা তো দূরের কথা, বিদ্যমান শিল্পগুলোও মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।

সংস্কার ও নীতিমালার আধুনিকায়ন

দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসার গতি বাড়াতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং পুরনো আইনগুলোর সংস্কার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। শ্রম আইন, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন এবং আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য নীতিমালার আধুনিকায়ন ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হবে। এছাড়া, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে চাঙ্গা করতে সুদের হার কমিয়ে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বৈশ্বিক বিনিয়োগ খরার এই সময়ে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনই হতে পারে অর্থনীতির রক্ষাকবচ।

চতুর্থ চ্যালেঞ্জটি হলো ডলার সংকট ও দক্ষ শ্রমশক্তি। ডলারের বিনিময় হার সহনশীল পর্যায়ে নামিয়ে এনে মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির পথ সুগম করতে হবে। একই সঙ্গে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন। অন্যদিকে, বাজার ব্যবস্থাপনায় টিসিবির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আধুনিক সরবরাহ চেইন গড়ে তোলা জরুরি। বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই বাজার ব্যবস্থা তৈরি করা গেলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।

সর্বশেষ এবং সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জটি হলো দুর্নীতি দমন। একটি সুস্থ ব্যবসায়িক ইকো-সিস্টেম গড়ে তুলতে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া, আগামীর অর্থনীতিকে নেতৃত্ব দিতে তরুণ উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপদের মূলধারায় নিয়ে আসা প্রয়োজন। প্রযুক্তিনির্ভর নতুন প্রজন্মের ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারলেই বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে এবং কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন