সর্বশেষ
Loading breaking news...

উচ্চশিক্ষায় সংকটের মেঘ ও বেতন কমিশন থেকে অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের জন্য এক উদ্বেগের খবর হয়ে এসেছে অধ্যাপক মাকছুদুর রহমানের আকস্মিক পদত্যাগ। তিনি বর্তমান বেতন কমিশন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর এই প্রস্থান কমিশনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। অধ্যাপক মাকছুদুরের মতে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বার্থ রক্ষায় কমিশন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে এই সিদ্ধান্ত এক "নেতিবাচক বার্তা বয়ে আনতে পারে" বলে অনেকেই মনে করছেন।

প্রস্তাবনা ও উপেক্ষিত সুপারিশ

ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে যখন অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তৈরির লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই সাব-কমিটি দীর্ঘ পরিশ্রমের পর ৩৩টি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী প্রস্তাবনা পেশ করে। প্রতিটি প্রস্তাবনার পেছনে যথেষ্ট যুক্তি এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে কমিশনের সভায় এই সকল সুপারিশকে কোনো রকম গুরুত্ব ছাড়াই উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মেধাবী শিক্ষক ধরে রাখার সংকট

কমিশনের এই উদাসীনতায় দেশের মেধাবী শিক্ষকদের পেশায় ধরে রাখার বিষয়টি বড় হুমকির মুখে পড়েছে। সুপারিশমালায় শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা সরাসরি তাঁদের কর্মক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব ছিল। মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা বর্তমান কমিশনের সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়নি। শিক্ষা ও গবেষণায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সক্রিয় করার বিষয়েও কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে উচ্চশিক্ষার মান ধরে রাখা এখন "সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ" হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিশনের জোরালো দাবি

অধ্যাপক মাকছুদুর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছিলেন না। যখন মৌলিক সুপারিশগুলো বিবেচনাতেই নেওয়া হয় না, তখন পদে থাকা তাঁর কাছে অর্থহীন মনে হয়েছে। তিনি বর্তমান কমিশন কাঠামোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গবেষণাবান্ধব করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একটি গ্রহণযোগ্য পে কমিশন ছাড়া শিক্ষা খাতের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে তিনি বিশ্বাস করেন। কেবল পদত্যাগ নয়, বরং এটি শিক্ষা ব্যবস্থার "কাঠামোগত ত্রুটির বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ" হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গবেষণায় বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ

উচ্চশিক্ষা খাতে মেধাবীদের ধরে রাখতে হলে আর্থিক নিশ্চয়তা ও গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। অধ্যাপক মাকছুদুরের এই সিদ্ধান্ত সরকারকে নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে। কেবল আমলাতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে শিক্ষা খাতকে বিচার করলে দীর্ঘমেয়াদে দেশ মেধা সংকটে পড়বে। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা খাতে বড় ধরনের সংস্কার ও বিনিয়োগ এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় আরও পিছিয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন