সর্বশেষ
Loading breaking news...

রমজানকে সার্থক করতে নবীজি (সা.)-এর অমূল্য উপদেশ: মুমিনের পাথেয় যখন রহমতের ঝরনাধারা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মাহে রমজান মুমিন জীবনের আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের এক বিশেষ সময়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই বরকতময় মাসকে কীভাবে বরণ করতে হয় এবং মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করা যায়, তার একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা শিখিয়ে গেছেন। পরকালের পাথেয় সংগ্রহে নবীজি (সা.)-এর সেই অমূল্য উপদেশগুলো অনুসরণ করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য একান্ত জরুরি।

ইবাদতের বসন্তে কল্যাণের মহাবার্তা

রমজানের আগমনে নবীজি (সা.) সাহাবিদের অভিনন্দন জানাতেন এবং এর বিশেষত্ব বর্ণনা করতেন। তিনি বলতেন, এই মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ থাকে। এমনকি অবাধ্য শয়তানদেরও এই মাসে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। এই মাসেই রয়েছে ‘লাইলাতুল কদর’, যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। যারা এই কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়, তারা প্রকৃত অর্থেই হতভাগা।

রোজাদারদের জন্য নবীজি (সা.) সহজ ও বরকতময় সুন্নাহর নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি দ্রুত ইফতার করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, যা মানুষের মধ্যে কল্যাণের চিহ্ন হিসেবে গণ্য হয়। একইভাবে রাতের শেষভাগে সাহরি খাওয়ার উপদেশ দিয়েছেন, কারণ এতে বিশেষ বরকত নিহিত রয়েছে। দেরিতে সাহরি খাওয়া কেবল শারীরিক শক্তিই জোগায় না, বরং এটি দোয়া কবুলের এক মহেন্দ্রক্ষণ হিসেবে পরিচিত।

ইফতারের সময় খেজুর বা পানি ব্যবহার করা একটি অনন্য সুন্নাহ, যা শরীরকে দ্রুত সতেজ করে। এছাড়া রমজানের রাতে তারাবির নামাজের মাধ্যমে মুমিনেরা তাদের গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়। নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি বিশ্বাসের সাথে সওয়াবের আশায় কিয়ামুল লাইল পালন করবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। শেষ দশ দিনে ইতিকাফের মাধ্যমে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী হওয়া সম্ভব।

রমজান কেবল না খেয়ে থাকা নয়, বরং এটি নফসকে নিয়ন্ত্রণ ও আত্মশুদ্ধির এক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। নবীজি (সা.)-এর জীবনদর্শনের আলোকে রমজান পালন করলে তা পরকালীন মুক্তির সোপান হতে পারে। অন্যের প্রতি দয়া প্রদর্শন এবং দান-সদকার মাধ্যমে এই মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে সার্থক করাই হলো প্রকৃত মুমিনের লক্ষ্য। নবীজির এই শিক্ষাগুলোই আমাদের জীবনকে আলোকিত করতে পারে।

আরও পড়ুন