মহানবী (সা.) ভিক্ষাবৃত্তির বদলে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এক ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করেছিলেন
দারিদ্র্য ও বেকারত্ব কেবল আধুনিক বিশ্বের সংকট নয়, বরং এর শেকড় মানব ইতিহাসের গভীরে বিস্তৃত। এই জটিল সংকট নিরসনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এক যুগান্তকারী ও টেকসই পথ দেখিয়েছিলেন। তিনি কেবল ভিক্ষাবৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করেই ক্ষান্ত হননি, বরং সাহায্যপ্রার্থীকে একজন আত্মবিশ্বাসী উদ্যোক্তায় রূপান্তরিত করেছিলেন। হাতে সামান্য অর্থ তুলে দেওয়ার পরিবর্তে তিনি এমন এক স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি করেন, যা আজও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বনের শ্রেষ্ঠ মডেল।
ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর বিনিয়োগ
ইতিহাসের পাতায় বর্ণিত এক ঘটনায় দেখা যায়, একজন অভাবী ব্যক্তি সাহায্যের আশায় মহানবী (সা.)-এর কাছে আসেন। প্রচলিত সাহায্যের বদলে তিনি লোকটিকে জিজ্ঞাসা করলেন তার ঘরে কোনো সম্বল আছে কি না। লোকটি জানালেন তার সম্বল কেবল একটি গালিচা এবং একটি পানির পাত্র। মহানবী (সা.) সেই জিনিস দুটি সাহাবীদের মধ্যে মাত্র দুই দিরহামে নিলামে বিক্রি করে দিলেন। এই ক্ষুদ্র অর্থই ছিল লোকটির জীবনের নতুন মোড় ঘোরানোর প্রাথমিক মূলধন বা ক্যাপিটাল।
স্বাবলম্বী হওয়ার অভিনব নির্দেশনা
মহানবী (সা.) সেই দুই দিরহামের মধ্যে এক দিরহাম দিয়ে পরিবারের জন্য খাবার কিনতে বলেন। অন্য দিরহামটি দিয়ে একটি কুঠারের ফলা কিনে আনতে নির্দেশ দিলেন। লোকটি তা নিয়ে এলে মহানবী (সা.) নিজ হাতে সেই কুঠারে একটি কাঠের হাতল লাগিয়ে দেন। তিনি লোকটিকে নির্দেশ দিলেন জঙ্গল থেকে কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করতে এবং পনেরো দিন পর দেখা করতে। এটি ছিল নিছক কোনো সাহায্য নয়, বরং স্বনির্ভর হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্র ও কৌশল সরবরাহ করা।
শ্রমের মর্যাদায় নতুন ইতিহাস
নির্দিষ্ট সময় পর লোকটি যখন ফিরে এলেন, তখন তার হাতে ছিল উপার্জিত দশ দিরহাম। তিনি গর্বের সাথে জানালেন যে, এই অর্থ দিয়ে তিনি পরিবারের জন্য খাদ্য ও পোশাক কিনেছেন। মহানবী (সা.) তখন বললেন যে, অন্যের কাছে হাত পাতার চেয়ে নিজ হাতে পরিশ্রম করা অনেক বেশি সম্মানের। ‘নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কেউ কখনো খায়নি’—এই অমূল্য শিক্ষা তিনি ছড়িয়ে দিলেন। এই ঘটনাটি শ্রমের মর্যাদাকে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে ইতিহাসে অক্ষয় হয়ে আছে।
সামষ্টিক অর্থনৈতিক দর্শনের ভিত্তি
কেবল একক উদ্যোগ নয়, মহানবী (সা.) সম্মিলিত অংশীদারিত্বের মাধ্যমেও বেকারত্ব দূর করার কৌশল শিখিয়েছেন। মদিনার আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে কৃষিভিত্তিক অংশীদারিত্বের মডেল তৈরি করে তিনি একটি স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ে তুলেছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছিলেন যে, চরম সংকট ছাড়া ভিক্ষাবৃত্তি করা বৈধ নয় যা স্বনির্ভরতাকে উৎসাহিত করে। তার এই অর্থনৈতিক দর্শন আধুনিক বিশ্বের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রেও এক বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে। আজও মানবিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে এই কৌশলের কোনো বিকল্প খুঁজে পাওয়া ভার।
ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর বিনিয়োগ
ইতিহাসের পাতায় বর্ণিত এক ঘটনায় দেখা যায়, একজন অভাবী ব্যক্তি সাহায্যের আশায় মহানবী (সা.)-এর কাছে আসেন। প্রচলিত সাহায্যের বদলে তিনি লোকটিকে জিজ্ঞাসা করলেন তার ঘরে কোনো সম্বল আছে কি না। লোকটি জানালেন তার সম্বল কেবল একটি গালিচা এবং একটি পানির পাত্র। মহানবী (সা.) সেই জিনিস দুটি সাহাবীদের মধ্যে মাত্র দুই দিরহামে নিলামে বিক্রি করে দিলেন। এই ক্ষুদ্র অর্থই ছিল লোকটির জীবনের নতুন মোড় ঘোরানোর প্রাথমিক মূলধন বা ক্যাপিটাল।
স্বাবলম্বী হওয়ার অভিনব নির্দেশনা
মহানবী (সা.) সেই দুই দিরহামের মধ্যে এক দিরহাম দিয়ে পরিবারের জন্য খাবার কিনতে বলেন। অন্য দিরহামটি দিয়ে একটি কুঠারের ফলা কিনে আনতে নির্দেশ দিলেন। লোকটি তা নিয়ে এলে মহানবী (সা.) নিজ হাতে সেই কুঠারে একটি কাঠের হাতল লাগিয়ে দেন। তিনি লোকটিকে নির্দেশ দিলেন জঙ্গল থেকে কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করতে এবং পনেরো দিন পর দেখা করতে। এটি ছিল নিছক কোনো সাহায্য নয়, বরং স্বনির্ভর হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্র ও কৌশল সরবরাহ করা।
শ্রমের মর্যাদায় নতুন ইতিহাস
নির্দিষ্ট সময় পর লোকটি যখন ফিরে এলেন, তখন তার হাতে ছিল উপার্জিত দশ দিরহাম। তিনি গর্বের সাথে জানালেন যে, এই অর্থ দিয়ে তিনি পরিবারের জন্য খাদ্য ও পোশাক কিনেছেন। মহানবী (সা.) তখন বললেন যে, অন্যের কাছে হাত পাতার চেয়ে নিজ হাতে পরিশ্রম করা অনেক বেশি সম্মানের। ‘নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কেউ কখনো খায়নি’—এই অমূল্য শিক্ষা তিনি ছড়িয়ে দিলেন। এই ঘটনাটি শ্রমের মর্যাদাকে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে ইতিহাসে অক্ষয় হয়ে আছে।
সামষ্টিক অর্থনৈতিক দর্শনের ভিত্তি
কেবল একক উদ্যোগ নয়, মহানবী (সা.) সম্মিলিত অংশীদারিত্বের মাধ্যমেও বেকারত্ব দূর করার কৌশল শিখিয়েছেন। মদিনার আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে কৃষিভিত্তিক অংশীদারিত্বের মডেল তৈরি করে তিনি একটি স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ে তুলেছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছিলেন যে, চরম সংকট ছাড়া ভিক্ষাবৃত্তি করা বৈধ নয় যা স্বনির্ভরতাকে উৎসাহিত করে। তার এই অর্থনৈতিক দর্শন আধুনিক বিশ্বের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রেও এক বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে। আজও মানবিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে এই কৌশলের কোনো বিকল্প খুঁজে পাওয়া ভার।