সর্বশেষ
Loading breaking news...

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ইরানের পাশে পুতিন: ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে ক্রেমলিনের সতর্কবার্তা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের ঘনঘটা এবং ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী উত্তেজনার মাঝে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের পর বর্তমান সংকট নিয়ে রাশিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। এই ফোনালাপে পুতিন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কূটনীতির পথে ফেরার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

কূটনৈতির আড়ালে প্রচ্ছন্ন রণহুঙ্কার

পুতিন ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই জরুরি ফোনালাপের শুরুতেই রুশ প্রেসিডেন্ট ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট বর্তমান যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে পুতিনকে বিস্তারিত অবহিত করেন। ফোনালাপ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রাশিয়ার প্রশাসনিক সদর দপ্তর ক্রেমলিন থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রাশিয়া ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বলপ্রয়োগের কৌশলের ঘোর বিরোধী।

ক্রেমলিন মনে করে, একমাত্র রাজনৈতিক সংলাপই এই সংকটের সমাধান আনতে পারে। এই বিবৃতির মাধ্যমে রাশিয়া কার্যত পশ্চিমা বিশ্বকে একটি কঠোর বার্তা দিল। তারা বুঝিয়ে দিয়েছে যে, ইরানের ওপর একতরফা কোনো সামরিক পদক্ষেপ রাশিয়া মেনে নেবে না এবং প্রয়োজনে তারা তাদের কৌশলগত মিত্রের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালো ভূমিকা পালন করবে।

অপারেশন এপিক ফিউরি ও যুদ্ধের নেপথ্য

এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল দীর্ঘ ২১ দিনের একটি নিষ্ফল সংলাপের পর। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চললেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। এর ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। একই তালে তাল মিলিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীও শুরু করে তাদের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’। পশ্চিমা এই আক্রমণের মুখে ইরানও দমে না থেকে পাল্টা আঘাত হানছে।

প্রেসিডেন্ট পুতিন জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলাপে তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে রাশিয়ার পূর্ণ সংহতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই অসম যুদ্ধে ইরানকে কেবল রাজনৈতিক সমর্থনই নয়, বরং মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে নেপথ্যে থেকে সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া, যা ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন