ট্রাম্প-ইরান সংঘাতে ‘মহা বিপর্যয়ে’র হুঁশিয়ারি কাতারের
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে, যা কাতারকে চরম সতর্কবার্তা দিতে বাধ্য করেছে। উপসাগরীয় দেশটি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, দুই পরাশক্তির মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তা সমগ্র অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের জেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার হুমকির পরই দোহা এই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মহাবিপর্যয়ের অশনি সংকেত
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজিদ আল-আনসারি দোহার এক সংবাদ সম্মেলনে পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আমরা জানি যে, যেকোনো ধরণের উত্তেজনা কেবল এই অঞ্চল নয়, এর বাইরেও বিপর্যয়কর ফলাফল বয়ে আনবে।" তিনি আরও যোগ করেন, "তাই সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।" উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইরানি বাহিনী কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ‘আল উদেইদ’-এ হামলা চালিয়েছিল। তারও আগে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই নজিরবিহীন সংঘাতের সময়ও কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করেছিল।
রক্তে ভাসছে রাজপথ
অন্যদিকে, গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানে শুরু হওয়া ব্যাপক গণবিক্ষোভ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করতে ইরানে সরাসরি বিমান হামলার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ইরানে নিহতের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। নরওয়েভিত্তিক এনজিও ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ (আইএইচআর) নিশ্চিত করেছে যে, বিক্ষোভে অন্তত ৬৪৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে তাদের আশঙ্কা, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। টানা কয়েকদিন ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন উপায়ে এই ভয়াবহ তথ্য বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে।
পাল্টা আঘাতের হুঙ্কার
ট্রাম্পের আগ্রাসী মনোভাবের জবাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরানও। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরান হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক মন্তব্যে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনী ও নৌপরিবহনকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে উল্লেখ করে পাল্টা আঘাতের হুমকি দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক প্রস্তুতির জেরে উপসাগরীয় পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলকে উচ্চ সতর্কতায় রেখেছে। ভৌগোলিকভাবে সংবেদনশীল অবস্থানে থাকা কাতার সংকট নিরসনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তাদের প্রচেষ্টা একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি এড়ানো, যা তেলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এবং সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘটনাবলীর ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে, একটি মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানের আশা করছে।