সিসিটিভি ফুটেজে মিলনের ছায়ামূর্তি, বনশ্রীর ফাতেমা হত্যায় র্যাবের জালে প্রধান আসামি
রাজধানীর বনশ্রীতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তারকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন মিলনকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত এই যুবক নিহতের বাবার রেস্তোরাঁতেই কাজ করত। র্যাব সদর দপ্তর থেকে গণমাধ্যমকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা শোকাতুর পরিবারটির মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দিয়েছে।
রক্তমাখা ঘরে নিথর দেহ
এর আগে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের 'প্রীতম ভিলা' নামের একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ফাতেমার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ পাওয়া একটি ফোনের সূত্র ধরে খিলগাঁও থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফাতেমা স্থানীয় রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল এবং মা-বাবা ও ভাই-বোনের সঙ্গে ওই বাসাতেই বসবাস করত। তাদের আদি নিবাস হবিগঞ্জের লাখাইয়ে এবং তার বাবা সজীব মিয়া বনশ্রী এলাকাতেই একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে মিলনের ছায়া
ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালায়। তদন্তের এক পর্যায়ে ওই বাসার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে রেস্তোরাঁকর্মী মিলনকে ঘটনার সময় বাসায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। ঘটনার পর থেকেই মিলন গা ঢাকা দেওয়ায় পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। ফুটেজে তার উপস্থিতি এবং পরবর্তী আচরণ তাকে সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।
চুরিতে বাধা দেওয়ায় হত্যা
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, মূলত চুরির উদ্দেশ্যেই মিলন ওই বাসায় প্রবেশ করেছিল। কিন্তু ফাতেমা তাকে চিনে ফেলায় এবং বাধা দেওয়ায় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ধর্ষণের কোনো আলামত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিচারের অপেক্ষায় পরিবার
একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে ফাতেমার পরিবার এখন বাকরুদ্ধ। বাবার দোকানের বিশ্বস্ত কর্মচারীর এমন নৃশংস রূপ দেখে হতবাক এলাকাবাসীও। র্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর এখন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মিলনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের স্বজনরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ধৃত আসামিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে এবং রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত জবানবন্দি নেওয়া হবে।