সর্বশেষ
Loading breaking news...

২১টি কবিতায় ভাষা শহীদের শ্রদ্ধা: রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে একুশের ব্যতিক্রমী আয়োজন

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শহীদদের স্মরণে এক ব্যতিক্রমী ও উদ্দীপক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্রে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানটির শিরোনাম ছিল—‘একুশটি পদ্য নিবেদন’। কবিতা, গভীর আলোচনা এবং সংগীতের সুরের মূর্ছনায় ভাষা আন্দোলনের বীরত্বগাথা স্মরণ করাই ছিল এই আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ সংলগ্ন শহীদ মিনারের সামনে এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

তারুণ্যের উদ্দীপনায় মুখরিত শহীদ মিনার

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ২১টি নির্বাচিত কবিতার নিবেদন, যা ভাষা আন্দোলনের চেতনার গভীরে প্রোথিত। বাংলা বিভাগের জুয়েল রানা, রাকেশ রায়, জান্নাতুল সুমন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের গণেশ চন্দ্র রায় এবং সংগীত বিভাগের রুপম অধিকারী ও চৈতি গুপ্তা পায়েলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীরা আবেগঘন কণ্ঠে কবিতা আবৃত্তি করেন। প্রতিটি চরণে বায়ান্নর সেই উত্তাল দিনগুলোর চিত্র এবং মাতৃভাষার প্রতি বাঙালির অবিচল মমত্ববোধ ফুটে ওঠে, যা উপস্থিত সবাইকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। তরুণদের কণ্ঠে ধ্বনিত প্রতিটি পঙক্তি যেন শহীদদের প্রতি এক একটি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি হয়ে ওঠে।

কবিতা পাঠের পর শুরু হয় আলোচনা সভা। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রিশাত শারমিন আমেরিকার লেখিকা রিটা মে ব্রাউনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, “ভাষা হলো একটি সংস্কৃতির মানচিত্র। এটি আপনাকে বলে দেয় সেই সংস্কৃতির মানুষ কোথা থেকে এসেছে এবং তারা কোথায় যাচ্ছে।” অন্যদিকে, সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী ফেরদৌস হোসাইন ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, তরুণরাই প্রতিটি সময়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে এবং বায়ান্নর রক্তঝরা সংগ্রামই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।

শুভ কাজের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন

বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি সানজিদা শিলা এই সৃজনশীল উদ্যোগ নিয়ে বলেন, “বসুন্ধরা শুভসংঘ সবসময়ই শুভ কাজের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে। একুশ মানেই মাথা নত না করা, একুশ মানেই মাথা উঁচু করে বাঁচার প্রেরণা। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কবিতার ছন্দে সেই শক্তিশালী বার্তাই পৌঁছে দিয়েছে।” তারুণ্যের এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি সুন্দর সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা। শিক্ষার্থীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, একুশের চেতনা আজও অম্লান।

আলোচনা পর্ব শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী মম রায় একক সংগীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে এক অভূতপূর্ব ও আবেগীয় মুহূর্তে। অমর একুশের কালজয়ী গান “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” পরিবেশনের সময় উপস্থিত সকলে সমস্বরে কণ্ঠ মেলান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কোষাধ্যক্ষ জুয়েল রানা এবং সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক শাহেদ আক্তার ও সাংগঠনিক সম্পাদক আকাশ রায়। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বসুন্ধরা শুভসংঘের এই সৃজনশীল ও সময়োপযোগী উদ্যোগকে আন্তরিক সাধুবাদ জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন