টিফিনের টাকা পাঠানো খুদে ভক্তদের অভিমান, অবশেষে মুখ খুললেন রাজপাল যাদব
বলিউডের চিরচেনা হাসিমুখের অভিনেতা রাজপাল যাদব এবার এক ভিন্নধর্মী আবেগঘন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের একদল খুদে পড়ুয়ার ভালোবাসা এবং পরবর্তীতে তাদের মান-অভিমান নিয়ে অবশেষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এই জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা। প্রিয় অভিনেতার দুর্দিনে নিজেদের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিল এই শিশুরা, অথচ মুক্তির পর তাদের এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে বিষাদের সুর।
তিল তিল করে জমানো সঞ্চয় ও ভালোবাসার বিরল নজির
ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে এক হৃদয়স্পর্শী কাহিনী। ২০১০ সালে নিজের চলচ্চিত্র ‘আতা পাতা লাপাতা’ নির্মাণের জন্য ৫ কোটি রুপি ঋণ নিয়ে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে কারাবরণ করতে হয়েছিল রাজপাল যাদবকে। সেই কঠিন সময়ে শাহজাহানপুরের ‘গুরুকুল সেবা ট্রাস্ট’-এর প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী তাদের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে একটি মাটির ব্যাংকে জমা করে। প্রিয় অভিনেতার সহায়তায় সেই সঞ্চিত অর্থ এবং একটি আবেগঘন চিঠি তারা ডাকযোগে পাঠিয়ে দিয়েছিল অভিনেতার পৈত্রিক ভিটে কুন্দ্রাতে।
২৯ সেকেন্ডের ভিডিও বার্তায় বিষাদমাখা আরজি
কারামুক্তির দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রাজপাল তাদের কোনো খোঁজ না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয় সেই খুদে ভক্তরা। সম্প্রতি একটি ২৯ সেকেন্ডের ভিডিও বার্তায় তারা সরাসরি অভিনেতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছোড়ে, ‘নমস্তে রাজপাল ভাইয়া, আপনি বাড়ি ফেরায় আমরা খুশি। কিন্তু আমাদের পাঠানো সাহায্য কি আপনি পেয়েছেন? পেয়ে থাকলে কেন চিঠির উত্তর দিলেন না? আমরা আপনার ওপর খুব অভিমান করেছি।’ এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরই নেটদুনিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়।
খুদে পড়ুয়াদের এই আরজি অনেককেই আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। প্রিয় অভিনেতার জন্য শিশুদের এই আত্মত্যাগ বিরল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজপালের সমালোচনাও করেন অনেকে। অবশেষে বিষয়টি বড় আকার ধারণ করলে অভিনেতা তার ব্যস্ততা ও পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং শিশুদের কাছে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর মাধ্যমে মুখ খুলেছেন রাজপাল যাদব। তিনি জানান, শিশুদের তিনি ‘নিজের সন্তানের মতো’ মনে করেন। ইতিমধ্যে তিনি একটি তালিকা তৈরি করছেন যারা কঠিন সময়ে তার পাশে ছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, খুব শিগগিরই তিনি শাহজাহানপুরের সেই গুরুকুলে যাবেন এবং শিশুদের জড়িয়ে ধরে তাদের ভালোবাসার যোগ্য সম্মান দেবেন। প্রিয় ‘ভাইয়া’র সেই আগমনের প্রতীক্ষায় এখন প্রহর গুনছে খুদে ভক্তরা।