রাজশাহীতে ভূমিদস্যুদের থাবা থেকে রক্ষা পেল ‘গাইপুকুর’: প্রশাসনের অভিযানে ভরাট বন্ধ
রাজশাহী মহানগরীর শাহাজিপাড়া এলাকায় ঐতিহ্যবাহী ‘গাইপুকুর’ অবৈধভাবে ভরাট করার অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের এক যৌথ অভিযানে পুকুরটির ভরাট কাজ বন্ধ করা হয়। প্রশাসনের এই তড়িৎ পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিনের পুরনো জলাশয়টি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
আইন ভেঙে দখলের মহোৎসব ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তির আত্মীয় মো. বাবু কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই পুকুরটি মাটি দিয়ে ভরাট করছিলেন। পরিবেশ ও জলাধার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী পুকুর ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও দিনদুপুরেই এই কাজ চলছিল। এলাকাবাসীর তীব্র প্রতিবাদের মুখে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাছমিনা খাতুন অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম স্থগিত করেন এবং মালিকপক্ষকে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ তলব করেন।
অভিযানের সময় জমির মালিক দাবি করেন, সিএস ও আরএস খতিয়ানে জমিটি ‘আমবাগান’ হিসেবে নথিভুক্ত। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন, এটি তাদের শৈশব থেকে একটি গভীর জলাশয় হিসেবেই পরিচিত। তারা অভিযোগ করেন, ভূমিদস্যুরা জাল কাগজপত্র তৈরি করে পুকুরটি দখলের চেষ্টা করছে, যা সফল হলে এলাকায় জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করবে।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, রাজশাহীর মতো বিভাগীয় শহরে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বজায় রাখতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই ধরনের জলাশয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। পুকুরটি ভরাট হলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নথিপত্র তদন্ত শেষে মালিকের দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাহাজিপাড়াবাসীর জন্য এটি একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা জানিয়েছেন, প্রশাসনের এই অনড় অবস্থান ভবিষ্যতে ভূমিদস্যুদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। আপাতত পুকুর ভরাট বন্ধ থাকলেও এলাকাবাসী এটিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ জানিয়েছে, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।