মাহে রমজান শুরু: চাঁদ দেখা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে পার্থক্য, ওমানের সঙ্গে মিল
রহমতের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত: আজ থেকে শুরু মাহে রমজান
পবিত্র আল-কোরআনের মাস, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ সময় মাহে রমজান শুরু হলো বাংলাদেশে। গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি সফলভাবে শাওয়াল মাসের চাঁদ পর্যবেক্ষণ করার পর আজ বৃহস্পতিবার থেকেই দেশব্যাপী রোজা পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই পবিত্র মাসের আগমনকে কেন্দ্র করে ধর্মপ্রাণ মুসলিম সমাজে শুরু হয়েছে নফল ইবাদত ও ত্যাগের প্রস্তুতি।
তারাবির ধারাবাহিকতায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিশেষ নির্দেশনা: যেভাবে হবে কোরআন খতম
রমজানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় এশার নামাজের পর আদায় করা বিশেষ নামাজ তারাবির মাধ্যমে। এই রাতে অনেক মসজিদে তারাবির মধ্যেই পুরো ত্রিশ পারা কুরআন তেলাওয়াত সম্পন্ন করা হয়। রোজার মাসব্যাপী ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করার নির্দেশনা দিয়েছে। সূত্রমতে, প্রথম ছয় রাতে দেড় পারা করে মোট ৯ পারা তেলাওয়াত করা হবে। এরপর বাকি ২১ দিনে প্রতিদিন এক পারা করে তেলাওয়াত করলে ২৭ রমজানের শবেকদরের রাতে কুরআন খতম সম্পন্ন হবে। এই নিয়মের কারণে ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নামাজ আদায়কারীরা এক মসজিদ থেকে অন্য মসজিদে গেলেও যেন ছেদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সুবহে সাদিকের পূর্ব মুহূর্তে সাহরি গ্রহণের মাধ্যমে দিনব্যাপী উপবাস বা সিয়াম সাধনার প্রস্তুতি নেন রোজাদাররা। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সংযম পালনের এই দিনগুলিতে ইবাদত-বন্দেগি, নফল নামাজ, জিকির-আজকার এবং দান-খয়রাতের পরিমাণ বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। মুসলমানরা আল্লাহ তাআলার অপার সন্তুষ্টি লাভের আশায় এই মাসে নিজেদের আমলকে পরিশুদ্ধ করার প্রয়াসে মগ্ন থাকেন।
সৌদি আরবের একদিন আগে রোজা শুরু, ওমান বাংলাদেশের সঙ্গে
রমজান শুরুর ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে ভৌগোলিক কারণে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। আমাদের দেশে আজ বৃহস্পতিবার থেকে রোজা শুরু হলেও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে, যেমন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে একদিন আগেই বুধবার রোজা শুরু হয়েছে। তবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ওমান মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সঙ্গে অগ্রসর না হয়ে বরং বাংলাদেশের সঙ্গে একই দিন অর্থাৎ আজ বৃহস্পতিবার থেকে সিয়াম সাধনা শুরু করেছে, কারণ তাদের দেশে চাঁদ দেখা যায়নি। আগামী ১৬ মার্চ রাতে লাইলাতুল কদর পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা এই মাসের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ রজনী হিসেবে মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে উদযাপিত হয়।
রমজান মাসকে ইবাদতের বসন্তকাল হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ এই মাসে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত, বরকত এবং নাজাতের নেয়ামত বর্ষিত হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। সারা বছর ধরেই মুসলমানরা এই মাসটির জন্য অপেক্ষা করে থাকে।