স্কুলছাত্রীদের অশ্লীল চিত্রায়ণ: র্যাপার বাদশাকে হরিয়ানা কমিশনে তলব
জনপ্রিয় ভারতীয় র্যাপার বাদশা তাঁর নতুন মিউজিক ভিডিও ‘টাটিরি’-তে স্কুলছাত্রীদের আপত্তিকরভাবে উপস্থাপনের কারণে আইনি ও নৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছেন। হরিয়ানা রাজ্য নারী কমিশন এই ভিডিওটির কঠোর সমালোচনা করে বাদশাকে সশরীরে তলব করেছে। গানটিতে স্কুল ড্রেস পরা ছাত্রীদের দিয়ে চটুল এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করানোর অভিযোগ ওঠার পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
গত ১ মার্চ ভিডিওটি মুক্তি পাওয়ার পরপরই নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে যে, ভিডিওটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কুরুচিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং নারীদের কেবল ‘ভোগ্যপণ্য’ হিসেবে প্রদর্শনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। এর ফলে সমাজের তরুণ প্রজন্মের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনেরা। চাপের মুখে পড়ে ভিডিওটি ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম থেকে ইতিমধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
হরিয়ানা নারী কমিশনের কড়া অবস্থান
হরিয়ানা নারী কমিশনের সভাপতি রেনু ভাটিয়া এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, শিল্পচর্চার নামে এমন নগ্নতা বা কুরুচিপূর্ণ বিষয়বস্তু কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে স্কুল ইউনিফর্ম পরে ছোট ছোট মেয়েদের এমনভাবে চিত্রায়ণ করা হয়েছে যা সমাজের নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। কমিশন মনে করে, এ ধরনের সৃষ্টিগুলো অপরাধীদের উৎসাহিত করে এবং শিশু অধিকার ক্ষুণ্ণ করে।
এই ঘটনায় শুধুমাত্র কমিশনই নয়, বরং পুলিশের কাছেও অভিযোগ জমা পড়েছে। অভয় চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি হরিয়ানার পঞ্চকুলা সাইবার ক্রাইম শাখায় বাদশার বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বাদশার মতো একজন জনপ্রিয় তারকার কাছ থেকে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কাম্য নয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আগামী ১৬ মার্চ র্যাপার বাদশাকে কমিশনের সামনে হাজিরা দিয়ে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিতে হবে। এর আগেও বাদশা তাঁর বিভিন্ন গানে চুরিকৃত কথা বা আপত্তিকর দৃশ্য ব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। ২০২০ সালে ‘গেন্দা ফুল’ গানে বাংলার রতন কাহারের নাম উল্লেখ না করে গানটি ব্যবহারের কারণেও তাঁকে ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। এবার স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই বির্তক তাঁর ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা হতে পারে।