সুপারকোপার পর এবার কোপা দেল রে থেকেও রিয়ালের করুণ বিদায়
কার্লোস বেলমন্তে স্টেডিয়ামে রিয়াল মাদ্রিদের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার অভিষেক দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো। সুপারকোপার ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই কোপা দেল রে থেকে নাটকীয়ভাবে ছিটকে গেল লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। স্বাগতিক আলবাসেতের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ৩-২ গোলের ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। আত্মঘাতী গোল ও রক্ষণভাগের দুর্বলতায় ভরা এই ম্যাচটি রিয়ালের জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
প্রথমার্ধের নাটকীয়তা
ম্যাচের শুরু থেকেই রিয়ালের খেলায় চেনা ছন্দের অভাব ছিল স্পষ্ট, ভিনিসিয়াস-রদ্রিগোরা আক্রমণে ধারালো হয়ে উঠতে পারেননি। বল দখলে এগিয়ে থাকলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণে ভীতি ছড়াতে ব্যর্থ হয় অতিথিরা, যেখানে ভালভের্দের দূরপাল্লার শট ছাড়া তেমন সুযোগ তৈরি হয়নি। উল্টো ৪২ মিনিটে জাভি ভিলারের শক্তিশালী হেডে লিড নেয় আলবাসেতে, যা স্টেডিয়ামে উৎসবের আমেজ তৈরি করে। তবে বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে কর্নার থেকে "মাস্তান্তুয়োনের ট্যাপ-ইনে সমতায় ফিরে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরে রিয়াল মাদ্রিদ।"
শেষের আগের উত্তেজনা
দ্বিতীয়ার্ধে আলবাসেতের কোচ আলবার্তো গঞ্জালেস কৌশলে পরিবর্তন এনে দলের গতি বাড়ান, যার ফলও মেলে দ্রুত। ৮২ মিনিটে কর্নার থেকে জটলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে জেফথার ভলিতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। পিছিয়ে পড়ে মরিয়া হয়ে আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে রিয়াল এবং ৯০+১ মিনিটে সেট-পিস থেকে গনসালো হেডে গোল করে স্কোরলাইন ২-২ করেন। মনে হচ্ছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াবে, কিন্তু নাটকের তখনও বাকি ছিল।
জেফথার জাদুকরী মুহূর্ত
অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে অর্থাৎ ৯০+৪ মিনিটে এক দ্রুত পাল্টা আক্রমণে রিয়ালের স্বপ্ন চুরমার করে দেন জেফথা। রিয়াল গোলরক্ষক প্রথম শটটি রুখে দিলেও, রিবাউন্ডে পাওয়া বল বাঁকানো শটে জালে জড়িয়ে ৩-২ গোলের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন তিনি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে বেলমন্তে স্টেডিয়ামে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়, যা আলবাসেতের ফুটবল ইতিহাসে এক স্মরণীয় রাত হয়ে থাকবে। শেষ মুহূর্তের এই গোলটি রিয়ালের রক্ষণভাগের কঙ্কালসার চেহারা উন্মোচিত করে দেয়।
ব্যর্থতার বৃত্তে রিয়াল
এই হারের ফলে রিয়াল মাদ্রিদের মৌসুমের লক্ষ্য বড় ধরণের ধাক্কা খেল এবং নতুন কোচের সূচনা হলো হতাশা দিয়ে। তারকাখচিত দল নিয়েও এমন হারে দলের আত্মবিশ্বাস ও রক্ষণভাগের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে প্রবলভাবে। অন্যদিকে, আলবাসেতের অদম্য সাহস ও কার্যকর ফিনিশিং প্রমাণ করল যে ফুটবলে বড় নাম নয়, বরং মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা বলে। আলবাসেতের জন্য এই রাতটি নিঃসন্দেহে ফুটবল মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।