এলপিজি সংকটে রেস্তোরাঁ শিল্প: সমস্যা না কাটলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের চরম হুঁশিয়ারি
দেশের রেস্তোরাঁ শিল্প এক অভূতপূর্ব সংকটের খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে। তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহের তীব্র সংকট এবং ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতাগুলোর দ্রুত সমাধান না হলে সমগ্র দেশের রেস্তোরাঁগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। মঙ্গলবার আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই কঠোর আল্টিমেটাম প্রদান করেন, যা দেশের আতিথেয়তা খাতে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জ্বালানি সংকটে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি
মালিক সমিতির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বর্তমানে এই শিল্পটি বহুমুখী সংকটে জর্জরিত, যার মূলে রয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। বিশেষ করে এলপিজি গ্যাসের অপর্যাপ্ততা এবং মূল্যের অরাজকতা ব্যবসায়ীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে দিয়েছে। "জ্বালানি, হয়রানি ও বিশৃঙ্খলার চক্রে আমরা পিষ্ট হচ্ছি,"—এমন ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা জানান, লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি এবং ট্রেড ইউনিয়নের নামে ব্যবসায়ীদের ওপর চলা অহেতুক হয়রানি পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রত্যাশিত স্বস্তি না মেলায় এই খাতের বিনিয়োগকারীরা এখন দিশেহারা।
অবকাঠামোগত সমস্যা ও অসম প্রতিযোগিতা
কেবল জ্বালানি নয়, কাঠামোগত সংস্কারের অভাবেও ধুঁকছে এই শিল্প। ব্যবসা পরিচালনার জন্য দীর্ঘদিনের দাবি 'ওয়ান-স্টপ সার্ভিস' চালু না হওয়ায় বৈধ ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতার শিকার হচ্ছেন। এর পাশাপাশি নিয়মবহির্ভূত স্ট্রিট ফুডের দৌরাত্ম্য জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় কর প্রদানকারী এবং ভ্যাট ও ট্যাক্সের আওতায় থাকা রেস্তোরাঁগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও এই সংকট নিরসনে কোনো সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার বা রূপরেখা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় বাড়ছে ক্ষোভ
সংগঠনটি বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, এলপিজি সংকট নিরসনে সরকার এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর বা উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বারবার ধর্ণা দিয়েও মেলেনি কোনো সমাধান, বরং সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারের এই দীর্ঘসূত্রিতা এবং নিষ্ক্রিয়তা ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশার জন্ম দিয়েছে। এর আগে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিলেও বিইআরসির আশ্বাসে তা স্থগিত হয়েছিল, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে তার সুফল মেলেনি।
লৌহকপাটের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি
সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যদি পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন না হয় এবং দাবিগুলো পূরণ না করা হয়, তবে বাধ্য হয়ে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি দেশব্যাপী সব রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠিন কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে তারা এবার আর কোনো মৌখিক আশ্বাসে বিশ্বাস রাখতে নারাজ। "দাবি না মানলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই,"—এমন বার্তাই উঠে এসেছে তাদের বক্তব্যে।