সর্বশেষ
Loading breaking news...

মাত্র ৫০০ টাকার জন্য চট্টগ্রামে রাইডশেয়ার চালককে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে ছিনতাইকারী

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ঢাকায় চাকরি হারিয়ে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় চট্টগ্রামে এসে রাইডশেয়ারিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন আজিয়ার রহমান। ভেবেছিলেন নতুন এই শহরে পরিশ্রম করে জীবনের চাকা কিছুটা হলেও ঘুরবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে মাত্র "৫০০ টাকার লোভে" তাকে নৃশংসভাবে খুন হতে হলো। বর্তমানে তার ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ক্লুবিহীন হত্যাকাণ্ডের কিনারা

১২ জানুয়ারি রাতে নগরীর বন্দর থানার পোর্ট কলোনি এলাকা থেকে আজিয়ারের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের এক মাইলের মধ্যে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় মামলাটি ছিল পুরোপুরি ক্লু-বিহীন। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল নিবিড় তদন্ত শুরু করে। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তারা ঘটনার "প্রকৃত রহস্য উন্মোচন" করতে সক্ষম হয়।

আসামির গ্রেপ্তার ও উদ্ধার

তদন্তের সূত্র ধরে পুলিশ ডবলমুরিং থানা এলাকা থেকে মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খোকনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি ও নিহত আজিয়ারের হেলমেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশের এই দ্রুত ও সফল অভিযান নগরবাসীর মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। খোকন হালিশহর এলাকায় একজন পেশাদার মাদকাসক্ত হিসেবে চিহ্নিত ছিল বলে পুলিশ জানায়।

তুচ্ছ ঘটনার মর্মান্তিক পরিণতি

ঘটনার বিবরণে জানা যায় শহীদুল ইয়াবা কেনার জন্য আজিয়ারের কাছে ৫০০ টাকা দাবি করেছিল। টাকা দিতে অস্বীকার করলে রাগের বশে সে আজিয়ারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আহত অবস্থাতেও আজিয়ার মোটরসাইকেল চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত "বন্দর মহিলা মাদ্রাসার" সামনে তিনি মৃত্যুর কোলে লুটিয়ে পড়েন।

পরিবারের শেষ অপেক্ষা

হত্যাকাণ্ডের মাত্র আধা ঘণ্টা আগেও পরিবারের সাথে আজিয়ারের শেষ কথা হয়েছিল। তার স্ত্রী তাকে সন্তানদের ঘুমের কথা মনে করিয়ে দিয়ে কলিং বেল না টিপে ফোন করার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে বের হওয়া আজিয়ার আর ফেরেননি। এই শোকাবহ ঘটনায় এলাকায় এবং রাইডশেয়ার চালক সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন