রিজভীর হুঁশিয়ারি: 'বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে বিএনপি'
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি শোকাহত হলেও তার আদর্শে বলীয়ান হয়ে নেতাকর্মীরা ঘুরে দাঁড়াবে। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, "দেশনেত্রী আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, কিন্তু তিনি আমাদের জন্য আপসহীনতার যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা-ই হবে আগামী দিনের আন্দোলনের পাথেয়।"
সরকারের প্রতি হুঙ্কার
রিজভী অভিযোগ করেন, সরকার বেগম জিয়াকে সুচিকিৎসা না দিয়ে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, "এই হত্যাকাণ্ডের বিচার একদিন বাংলার মাটিতে হবে। যারা ভেবেছিলেন খালেদা জিয়ার অবর্তমানে বিএনপি দুর্বল হয়ে পড়বে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন।" তিনি অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, রাজপথের আন্দোলনেই এই সরকারকে বিদায় করা হবে।
কর্মীদের প্রতি নির্দেশনা
সংবাদ সম্মেলনে সারাদেশের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানানো হয়। রিজভী বলেন, "শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। কোনো উসকানিতে পা দেবেন না, তবে অন্যায়ের প্রতিবাদে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবেন না।" তিনি জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে খুব শিগগিরই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আন্তর্জাতিক সমর্থনের প্রত্যাশা
বিএনপির এই নেতা বলেন, আন্তর্জাতিক বিশ্ব এখন বাংলাদেশের গণতন্ত্রহীনতা সম্পর্কে অবগত। বেগম জিয়ার মৃত্যুতে বিশ্বনেতাদের শোকবার্তা প্রমাণ করে তিনি কতটা জনপ্রিয় ছিলেন। রিজভী আশা প্রকাশ করেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই লড়াইয়ে গণতান্ত্রিক বিশ্ব বাংলাদেশের জনগণের পাশে থাকবে। তিনি মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
আগামীর পরিকল্পনা
আগামী কয়েক দিনের দলীয় কর্মসূচি সম্পর্কে রিজভী জানান, সারাদেশে দোয়া মাহফিল ও গায়েবানা জানাজা অব্যাহত থাকবে। এরপর কালো পতাকা মিছিলসহ কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে দল। তিনি বলেন, "বেগম জিয়ার আত্মা তখনই শান্তি পাবে, যখন দেশে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনে জীবন দিতেও প্রস্তুত।"