সর্বশেষ
Loading breaking news...

মাইনাস ২০ ডিগ্রিতে কিয়েভে রুশ তাণ্ডব: ড্রোন হামলায় বিধ্বস্ত ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহে ইউক্রেনের তাপমাত্রা যখন মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে, ঠিক সেই সময়েই রাজধানী কিয়েভসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মূলত বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই নতুন আক্রমণ চালানো হয়েছে। তীব্র ঠান্ডার মধ্যে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় বেসামরিক নাগরিকরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

হিমশীতল রাতে ১০০ ড্রোন হামলা

ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোররাতে রাশিয়া একযোগে ১০০টিরও বেশি ড্রোন ব্যবহার করে আক্রমণ চালায়। যদিও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে, তবুও দেশটির ১৪টি ভিন্ন স্থানে ড্রোন আঘাত হেনেছে অথবা এর ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। এই হামলায় একাধিক অঞ্চলে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, কিয়েভ, খারকিভ, সুমি এবং পোল্টভা অঞ্চল বর্তমানে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন। নিপ্রো ও চেরকাসি অঞ্চলেও পরিস্থিতি নাজুক। জ্বালানি অবকাঠামোতে চালানো প্রাণঘাতী হামলার পর কিয়েভে বিদ্যুৎ ফেরানোর জন্য দুই শতাধিক কর্মী দিনরাত কাজ করছেন, কিন্তু শহরের ১ হাজার ১০০-এর বেশি অ্যাপার্টমেন্টে এখনও বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। এছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় দ্রুজকিভকা শহরে রাশিয়ার গুচ্ছ বোমা হামলায় সাতজনের মৃত্যু এবং ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র নিন্দা

এই তীব্র শীতে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলাকে 'বর্বর' এবং 'বিশেষভাবে নিকৃষ্ট' আখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পরই তিনি এই কঠোর মন্তব্য করেন। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময় শেষ হওয়ার পরপরই রাশিয়া নতুন করে হামলা শুরু করে, যার ফলে সোমবার রাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বলে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন।

এদিকে, আবুধাবিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনকে নিয়ে শান্তি আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বৈঠক আয়োজন করলেও রাশিয়া বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে নেতৃত্ব দিলেও মস্কোর অনমনীয় মনোভাব এবং চলমান আক্রমণের কারণে দ্বিতীয় দফার এই আলোচনা থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আশা করা যাচ্ছে না। চলমান রুশ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধ অবসানের কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ বর্তমানে দৃশ্যমান নয়।

আরও পড়ুন