সর্বশেষ
Loading breaking news...

সালমান-আনিসুলের ভাগ্য নির্ধারণ আজ: গণহত্যার নেপথ্যে সেই ‘ফোনালাপ’ নাকি ষড়যন্ত্র?

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে কারফিউ জারি করে হত্যা ও নির্যাতনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ভাগ্য নির্ধারণ হবে আজ। সোমবার তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হবে কি না, সে বিষয়ে আদেশ দেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের এই আদেশের দিকে তাকিয়ে আছে সারাদেশ।

‘ওদের শেষ করে দাও’: ফোনালাপে তোলপাড়

প্রসিকিউশনের তরফে আনা পাঁচটি অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে একটি কথিত ফোনালাপ। অভিযোগ অনুযায়ী, আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান ফোনে কথা বলেন। সেই কথোপকথনের এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে’ দেওয়ার কথা শোনা যায়, যা কারফিউ জারির মাধ্যমে বাস্তবায়নের ইঙ্গিত বহন করে বলে দাবি রাষ্ট্রপক্ষের। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, তাদের এই ষড়যন্ত্র ও উসকানির জেরেই মিরপুর-১, ২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগের সশস্ত্র হামলায় বহু ছাত্র-জনতার প্রাণহানি ঘটে।

আদালতে উত্তপ্ত সওয়াল-জবাব

ট্রাইব্যুনালে এই মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের মধ্যে চলে তীব্র আইনি লড়াই। গত ২২ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সেই আলোচিত অডিও রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করে আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন জানান। অন্যদিকে, গত ৬ জানুয়ারি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী অভিযুক্তদের নির্দোষ দাবি করে তাদের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। তিনি আদালতে দাবি করেন, ফোনালাপের কণ্ঠস্বর সালমান বা আনিসুলের নয় এবং এটি বিদেশি বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষার আবেদনও করেন, যা ৪ জানুয়ারি আদালত নাকচ করে দেয়।



উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ আগস্ট সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তখন থেকেই তারা কারাগারে আছেন। গত ৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ তাদের বিরুদ্ধে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়, যার ওপর ভিত্তি করে আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে।

আদেশের অপেক্ষায় জাতি

আজকের আদেশের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে এই মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ। অভিযোগ গঠিত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বিচার কাজ। ছাত্র-জনতার রক্তঝরা সেই দিনগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি নিয়ে জনমনে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা। ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্ত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আরও পড়ুন