সালমান-আনিসুলের বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আজ
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় কারফিউ জারি করে গণহত্যায় উস্কানি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই চাঞ্চল্যকর মামলায় আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তাঁদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রক্তমাখা জবানবন্দি ও শিহরণ জাগানো সেই দিনগুলো
এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন দুইজন প্রত্যক্ষদর্শী, যাদের জবানবন্দিতে উঠে আসে জুলাইয়ের সেই বিভীষিকাময় চিত্র। তাঁদের একজন ইমরান হোসেন, যিনি চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিজের পা হারিয়েছেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এই কর্মী গত ১৯ জুলাই মিরপুর-১১ থেকে ১০ নম্বরের দিকে আসছিলেন। হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হলে প্রাণ বাঁচাতে আন্দোলনকারীদের মাঝে আশ্রয় নেন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি; মিরপুর-১০ এ পৌঁছাতেই পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ছোড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে তাঁর ডান পা বিদ্ধ হয়।
একই দিনে দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে আদালতের সামনে আসেন শহীদ সিফাতের বাবা কামাল হাওলাদার। নিজের চোখের সামনেই ২০ জুলাই ছেলেকে গুলিবিদ্ধ হতে দেখেছিলেন তিনি। সেই বীভৎস স্মৃতির বর্ণনা দিতে গিয়ে ট্রাইব্যুনালে তিনি সন্তান হত্যার বিচার দাবি করেন। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী এই দুই সাক্ষীকে জেরা করেন।
এই ঐতিহাসিক বিচার প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছিল বেশ আগেই। গত ১০ ফেব্রুয়ারি আলোচিত এই মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। তারও আগে, গত ১২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর আনুষ্ঠানিক আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল-১। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করে এবং একই দিন আদালত অভিযোগগুলো আমলে নেন। আজকের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই স্পর্শকাতর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।