বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে সৌদি বাদশাহর গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ। এক রাজকীয় শোকবার্তায় তিনি মরহুমার পরিবারের সদস্য এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন। বাদশাহ উল্লেখ করেন, মুসলিম উম্মাহর উন্নয়ন ও দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে হারাল।
ক্রাউন প্রিন্সের বার্তা
সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানও পৃথক বার্তায় শোক জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন সাহসী নেতৃত্ব। তার শাসনামলে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তিনি মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান। সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকায় দূতাবাসের মাধ্যমে এই শোকবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
সৌদি বাদশাহর এই শোকবার্তাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। এটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের উষ্ণ সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাও ইতোমধ্যে শোক জানিয়েছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেগম জিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্ব আবারও প্রমাণিত হলো। বিএনপি নেতারা সৌদি বাদশাহর এই বার্তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
জানাজায় সৌদি প্রতিনিধি
জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে সৌদি সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসতে পারে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীরাও মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদে মরহুমার জন্য বিশেষ দোয়ার আয়োজন করেছেন। শোকের এই সময়ে বন্ধুরাষ্ট্রের এমন সহমর্মিতা বাংলাদেশের মানুষকে কিছুটা হলেও সান্ত্বনা দিচ্ছে।
ঐতিহাসিক সম্পর্ক স্মরণ
শোকবার্তায় সৌদি বাদশাহ অতীতে বেগম খালেদা জিয়ার সৌদি আরব সফরের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম জিয়া সবসময়ই সৌদি আরবের একজন অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। তার সময়ে জনশক্তি রপ্তানিসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক চুক্তির কথা স্মরণ করা হয়। সৌদি আরব বাংলাদেশের যেকোনো দুঃসময়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব ব্যক্ত করেছে এই শোকবার্তার মাধ্যমে।