সাভারে ছাত্র হত্যার মূল হোতা ‘ল্যাংড়া সোহেল’ অবশেষে পুলিশের জালে
সাভারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলি চালিয়ে শিক্ষার্থী হত্যার অন্যতম মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ওরফে ‘ল্যাংড়া সোহেল’ অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। রবিবার রাতে সাভার পৌরসভার মজিদপুর এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা এই সন্ত্রাসীর গ্রেফতারের খবরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সময় সহিংসতায় তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অপরাধ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত সোহেল রানা (৪৫) মজিদপুর এলাকার হেলাল মিয়ার পুত্র এবং স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। তিনি সাভার থানা যুবলীগের সাবেক সভাপতি এবং বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম মন্ডলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। এই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার দাপটে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে এতদিন কেউ মুখ খোলার সাহস পেত না।
আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ছাত্র আন্দোলনের সময় সাভারে আন্দোলনকারীদের ওপর নৃশংস হামলায় সোহেল রানার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। তিনি এবং তার সহযোগীরা শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও হামলা চালিয়েছিল বলে জোরালো অভিযোগ রয়েছে। সেই ঘটনার পর পরিস্থিতি প্রতিকূল দেখে তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং দীর্ঘ সময় পলাতক ছিলেন। ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার তিনি একজন এজাহারভুক্ত আসামি। তার এই নৃশংস কর্মকাণ্ডের বিচার চেয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছিল ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান
সম্প্রতি পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে ভেবে সোহেল রানা গোপনে এলাকায় ফিরে আসেন এবং আবারও অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছিলেন। তবে পুলিশ তার অবস্থান সম্পর্কে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিশ্চিত তথ্য পায় এবং তাকে নজরদারিতে রাখে। সেই তথ্যের সূত্র ধরে সাভার মডেল থানার একটি চৌকস দল রবিবার রাতে মজিদপুর এলাকায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই তাকে ঘেরাও করে আটক করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই সফল অভিযানের ফলে এলাকার সাধারণ মানুষের মনে পুলিশের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী সোহেল রানার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেছেন। তিনি জানান, ধৃত সোহেলের বিরুদ্ধে সাভারে ছাত্র হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারেও তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।